র‌্যাগিংয়ের শিকার ইবি ছাত্রী

টি এইচ জায়িম,ইবি প্রতিনিধি।

ইসলাৃমী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রথম বর্ষের নাঈমা (ছদ্মনাম) নামের এক ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিক্ষার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার দুপুর ১টার দিকে অনুষদ ভবনের পাশে এ ঘটনা ঘটলে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। সোমবার (৩ মার্চ) এ ঘটনায় বিভাগীয় সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী জানান, আইন ও ভুমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তুশারের সঙ্গে ক্যাম্পাসে হাটছিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এসময় অভিযুক্ত আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সাথী, অনন্যা নারগিস, তাজমীন নাহার, জান্নত-ই-কাওনাইন মাকনুন দেখে তাদের পথ রোধ করেন।

এসময় তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার চরিত্র নিয়ে তুলে। পরে তুশার ভুক্তভোগি ছাত্রীকে নিয়ে অনুষদ ভবনের সামনে আসলে আবার তাদের পথ রোধ করেন অভিযুক্তরা। এসময় আবারো ওই ছাত্রীকে গালি-গালাজ করে ও মারধর কারতে উদ্যত হয়। এসময় অভিযুক্তরা তাকে বলে, “তুই ক্যামনে ক্যাম্পাসে পড়িস দেখে নিবো। সোস্যাল ওয়েল ফেয়ার বিভাগ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।”

এসময় অতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে বমি করে ভুক্তভোগী। পরে তাকে কুষ্টিয়া শহরে তার মেসে পাঠিয়ে দেয় তুশার। পরে সোমবার বিভাগীয় সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এছাড়াও অভিযুক্ত এই চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে তাদের নিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদেরও র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন তার সহপঠীরা।

এবিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী তুশার বলেন, “আমার অভিযুক্ত ছাত্রীদের সঙ্গে কোন শত্রুতা নাই। তারা কেন এমন উগ্র আচরণ করেছে আমি জানি না। আমি বাধা দিলেও আমাকে উপেক্ষা করে তারা নির্যাতন চালায়।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “তারা আমাকে মানসিক নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত জান্নত-ই-কাওনাইন মাকনুন বলেন, “আমি এ বিষয়ে মিডিয়াকে কিছু বলব না।”

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উাপচার্য এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, “আমি র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি এবং তা প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করেছি। প্রক্টর মহোদয় বিষয়টি দেখছেন। সব কিছু জাচাই-বাচাই করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, “আমি সোস্যাল সমাজ কল্যাণ বিভাগের সভাপতির কাছে থেকে অভিযোগ পত্র পেয়েছি। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন পেশ করবো।”

পছন্দের আরো পোস্ট