ড্যাফোডিলে আইকনসিএস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘২য় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স (আইকনসিএস-২০২০)’ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি বাংলাদেশের মহাপরিচালক মো. রেজাউল করিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেমাল আবাওয়াজি, অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মামুন আলাজব এবং তুরস্কের কারবুক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. অগুজ ফিনডিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব-উল- হক মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. তৌহিদ ভূইয়া।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ২০টি দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞগণ ২৮১টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়াও দুই দিনের এই সম্মেলনে কিনোট সেশন, প্লেনারি সেশন, টেকনিক্যাল সেশন থাকবে এবং সেরা প্রবন্ধ উপস্থাপনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন শেষ হবে।

সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্রুত সম্প্রসারণশীল সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অধিকতর গবেষণা করা, প্রবন্ধ প্রকাশ করা, গবেষণার জন্য ফান্ড তৈরি করা ইত্যাদি। সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলো পরবর্তীতে স্প্রিংজার জার্নালে প্রকাশিত হবে এবং স্কোপাস ইনডেস্কড করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি বাংলাদেশের মহাপরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি মন্দ দিকও রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতন না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর প্রযুক্তির খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই আমরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন না হই, তাহলে আমাদের জীবন সহজ হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে পড়বে। এ সময় তিনি প্রযুক্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ রকম সম্মেলনের আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত। কারণ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দেশের ভৌগলিক নিরাপত্তা হয়ত নিশ্চিত করা যায়, কিন্তু সাইবার জগতের তো কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। তাই সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. রেজাউল করিম বলেন, ভবিষ্যতে সাইবার সিকিউরিটি হবে ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত। সরকার ইতিমধ্যে ‘আইসিটি ক্যাডার’ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সুতরাং সাইবার সিকিউরিটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার অবারিত সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তুরস্কের কারাবুক ইউনিভার্সিটির রেক্টর অধ্যাপক ড. রেফিক পোলাট বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার সিকিউরিটি শব্দটি সারা পৃথিবীর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। কারণ মানুষের প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে এবং একইসঙ্গে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। তাই সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে সবাইকেই সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. রেফিক পোলাট বলেন, দুই দিনের এই সম্মেলনে যেসব বিষয়কে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়পোযোগী। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ব্যাংক একাউন্ট হ্যাকিং সম্পর্কে জানলেই চলবে না, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কেও জানতে হবে। তা না হলে নিজের ব্রেইন হ্যাক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এক ডিভিও বার্তায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় হুমকির নাম সাইবার সিকিউরিটি। কারণ বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। সবকিছু প্রযুক্তির আওতায় চলে আসছে। এই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন সাইবার নিরাপত্তার ব্যাপারে নতুন নতুন পথ আবিষ্কার করতে সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনরেল মো. মোস্তফা কামাল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ, সিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকার ও ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন।

উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স-আইকনসিএস এর প্রথম সম্মেলনটি ২০১৮ সালে তুরস্কের কারাবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পছন্দের আরো পোস্ট