শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে তোফা

মোঃ শাদমান শাবাব,শাবিপ্রবি প্রতিনিধি।

প্রচলিত ধারণায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অভিশাপ হিসেবে দেখা হলেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোন সমস্যা নয় তার অসংখ্য নজির রয়েছে ইতিহাস জুড়ে।শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে ছুটে চলা মানুষের সংখ্যাও বর্তমানে নেহাত কম নয়। তাসলিমা হোসেন তোফা তেমনই এক যোদ্ধার নাম। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে যে ছুটে চলছে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। তোফা বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগে অধ্যয়নরত। সবে ২য় বর্ষ শেষ করে ৩য় বর্ষে পদার্পণ করেছে।

তোফা জানায়, জন্মের সময় মস্তিষ্কে আঘাত জনিত কারণ বা সেরিব্রাল পালসি (সিপি) এর দরুণ আস্তে আস্তে দেখা দেয় তার পুরো বামপাশ জুড়ে সমস্যা। হাত পায়ে অনুভূতি আছে ঠিকই কিন্তু মস্তিষ্কের কোষে ক্ষতি সাধন হওয়ায় সিগনাল আসে না। ফলে সাধারণ কাজ কর্ম করতে অসুবিধা হয় তার। সাধারণ মানুষের থেকে সব কাজেই সময় বেশি লাগে। পুরো হাতেই সমস্যা। সমস্যা আছে পায়েও কিন্তু হাঁটতে পারে। তবে বেশি সময় হাঁটাচলা করতে পারে না। বাস,রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনে চলাচলে সমস্যা হয় তার। যখন প্রেশারে থাকে অর্থাৎ পড়াশোনা বা কাজ বেশি থাকে তখন খিঁচুনির মতো কাঁপাকাপি হয়,ব্যাথা করে,ক্লান্তি আসে, দমবন্ধ হয়ে আসে। তারপরেও জীবনযুদ্ধে থেমে থাকেনি সে। তার এই পথচলায় পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা পেয়ে এসেছে। সবাই সাধ্যমত তাকে সাহায্য করে থাকে। এজন্য সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে।

তার এই চলার পথ যে মসৃণ ছিল না তা জানতে বিদ্যালয়ের নাম না প্রকাশ করার শর্তে তোফা বলে, ছোটবেলায় একটা স্কুলে কেজিতে ভর্তি হতে গিয়েছিল কিন্তু তারা তাকে প্লে তে ভর্তি করিয়েছিল জোর করে , বলেছিল যে তার যেহেতু সমস্যা আছে তাই ওই ক্লাসের সাথে কম্পিটিশনে পারব না। কিছুদিন পড়ে কেজিতে ট্রান্সফার করেছিলো এই শর্তে যে, ১-১০ এর মধ্যে থাকতে হবে। আরেক জায়গায় মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও দুই বার ভাইভা দিতে হয়েছিল তার। পরবর্তীতে এই দুই স্কুল ত্যাগ করে সে ভর্তি হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে। সেখান থেকে সে তার স্কুল এবং কলেজ জীবনের শেষ করে । তারপর ভর্তি হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে তোফা সংযুক্ত আছে শাবিপ্রবির অন্যতম স্বনামধন্য সংগঠন সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবে। লেখালেখির পাশাপাশি তোফার আগ্রহ আছে রিসার্চেও। তোফার মতে,”যাদের এধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে তাদের আসলে নিজের সাথেই যুদ্ধ করা লাগে অন্যদের সাথে সমান ভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আর সমাজের সাধারণ একটা ধারণা হলো এধরণের মানুষরা কিছু করতে পারেনা। এটা বদলানো দরকার।”

উল্লেখ্য, তোফার বাসা ঢাকার আজিমপুরে। আর গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী।

পছন্দের আরো পোস্ট