সর্বদা অজু অবস্থায় থাকার যত ফজিলত

ইহসানুল হক।

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। আর নামাজ আদায়ের জন্য অন্যতম শর্ত পবিত্রতা অর্জন। পবিত্রতা অর্জনের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত কর।’ (সুরা মায়েদা : ৬)। এটাই হচ্ছে অজু; যা কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, কান ও ঘাড় মাসেহ করা, হাত-পায়ের আঙুল খিলাল করা এসব সুন্নতের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।

অজু হচ্ছে বান্দার পবিত্রতা। পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : ২২২)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ছাড়াও অন্য সময় পবিত্র অবস্থায় থাকলে মন সতেজ ও কোমল থাকে।

হজরত বেলাল (রা.)-এর বিশেষ আমলই ছিল এটা যে, তিনি সর্বদা অজু অবস্থায় থাকতেন। আর যখনই অজু করতেন সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। ফলে রাসুল (সা.) মেরাজের রাতে জান্নাতেও বেলাল (রা.)-এর জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বেলালকে (রা.) বললেন, তোমার সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে আমাকে বল, আমি জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। বেলাল (রা.) বললেন, আমার সর্বোত্তম আমল হলো, আমি রাতে অথবা দিনে যখনই পবিত্রতা অর্জন করি তখনই তার দ্বারা সাধ্যমত নামাজ আদায় করে থাকি। (কানজুল উম্মাল : ৩৫৪৫৪)।

অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে অজু সম্পাদন করে, (তার জন্য) ফরজ নামাজগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (মুসলিম : ৫৭৮)। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছিলেন, ‘হে বৎস!   সম্ভব   হলে সবসময়   অজু   অবস্থায় থাক। কেননা মৃত্যুর ফেরেশতা অজু অবস্থায়  যার জান কবজ করেন তার শাহাদাতের  মর্যাদা লাভ হয়।’ (শুয়াবুল  ঈমান, বাইহাকি :২৭৮৩)

অজুর কারণে হাশরের ময়দানে বান্দার চেহারা আলোয় ঝলমল করতে থাকবে। হজরত নুয়াইম মুজমির (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি অজু করে বললেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে, অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমন্ডল ঝলমল করতে থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ ঝলমলতা বাড়িয়ে নিতে চায় সে যেন বেশি বেশি অজু করে।’ (মুসলিম : ২৪৬; মুসনাদে আহমাদ : ৯২০৬)

রাতে ঘুমের সময়ও অজু করে ঘুমানো। এতে অনেক বড় ফজিলত অর্জিত হয়। হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তুমি ঘুমের জন্য বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেবে।

তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবে ‘আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদতু আমরি ইলাইকা, ওয়া আলজা-তু জাহরি ইলাইকা, রগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়া লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকাল্লাজি আনজালতা, ওয়া বিনাবিইয়িকাল্লাজি আরসালতা’, অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমার জীবন তোমার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সব কাজ তোমার কাছে অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে।

তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোনো আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।’ অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের ওপর তোমার মৃত্যু হবে। (বুখারি : ২৪৭)

পছন্দের আরো পোস্ট