জরাজীর্ন এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মেহেদী হাসান লিপন,মোরেলগঞ্জ(বাগেরহাট) প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জিউধরা সেরজন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ৪৪ বছরের কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যালয়টি এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে রয়েছে উন্নয়ন আর অবকাঠামো থেকে।ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে লাগাতার দ্বন্ধের কারনে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ বিদ্যালয়টি।

১৯৭৫ সালে জিউধরা ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের ইতিহাস আর ঐতিহ্য বহনকারী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক। শ্রেণীকক্ষগুলোর অবকাঠামো খুবই নাজুক। দু’ কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা টিনশেটের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। লোনায় ধরা ইটগুলো দৃশ্যমান। যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য শ্রেণীকক্ষগুলো টিনসেটের তৈরী । ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তীতে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশন অফিসকক্ষসহ ৪টি সেমিপাকা কক্ষ নির্মাণ করে । এর দুটি কক্ষ ক্লাশরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রয়েছে আসবাবপত্র সহ চেয়ার টেবিলের সমস্যা। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোন পাণীয় জলের ব্যবস্থা। ১ কিলোমিটার পায়ে হেটে সরকারি পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। অপ্রতুল সেনিটেশন ব্যবস্থা।

প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মাহতাব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোন পাকা ভবন হয়নি। ১৯৯০ সালে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি বিজ্ঞান ভবন নির্মিত হলেও তা এখন পরিত্যক্ত।

বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি সভাপতি ইউসুফ আলী মৃধা বলেন , ইতোপূর্বে একজন দীর্ঘ ২৬ বছর এ প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার আমলে বিদ্যালয়ে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিদ্যালয়ের জন্য একটি শিক্ষা ভবন নির্মাণ সহ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এ উপজেলায় যে সমস্ত বিদ্যালয়ে এখনো পাকা ভবন নির্মাণ হয়নি সে সব বিদ্যালয়গুলোর চাহিদা অনুযায়ী একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পর্যাক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ভবন নির্মিত হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট