চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধন

চুয়েট প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ বহুল প্রতীক্ষিত দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম “শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর” স্থাপন প্রকল্পের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এম.পি. মহোদয় আজ (৮ ডিসেম্বর) রবিবার চুয়েট ক্যাম্পাসে উক্ত নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি. এবং চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চুয়েট রোবটিকস ল্যাব এবং মোবাইল গেইম্স এন্ড অ্যাপ্স ডেভেলেপমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

পরে চুয়েট কাউন্সিল কক্ষে আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প আয়োজিত চলমান “সোশ্যাল মিডিয়া প্যারেড” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এম.পি.। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি, চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম এবং ইনকিউবেটর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ন-সচিব) সৈয়দ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও ইনকিউবেটরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান। পরে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে চুয়েটে “শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর” স্থাপন করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়েট ক্যাম্পাসে ৫ একর জমির উপর ১০ তলা ভবন বিশিষ্ট ইনকিউবেটরটি নির্মিত হচ্ছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে মধ্যে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এম.পি. বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন-নতুন সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার কাজে মনযোগী হতে হবে। সেক্ষেত্রে চুয়েটের এই মেগা-প্রজেক্ট শেখ কামাল আইটি বিজসেন ইনকিবেশন সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরো সম্মৃদ্ধ করবে। এ সময় তিনি চুয়েটকে দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন বলেও মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যেএ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি. বলেন, চুয়েট হচ্ছে মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগর। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হচ্ছেন ÔCream of the Society। চুয়েটে নির্মিতব্য আইটি ইনকিউবেটর তরুণদের জন্য একটা বড় প্ল্যাটফর্ম। এই ইনকিউবেটরের জন্য আমি মাটি কাটতেও রাজী। এ সময় তিনি ফেসবুকে মানহানি ও অবমাননাকর ঘটনা বন্ধে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর দেশবাসীর জন্য একটা ড্রিম প্রজেক্ট। এর মাধ্যমে দেশের আইটি সেক্টরের প্রত্যেকে উপকৃত হবেন। আইটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরি ও বিভিন্ন সৃজনশীল আইডিয়াকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এই ইনকিউবেটর একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরপ্রসঙ্গত, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর ২৬তম সভায় গত ৬ জুন, ২০১৭ একনেক চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ প্রকল্পের আওতায় চুয়েট ক্যাম্পাসে ১০ তলা ভবনের ৭ তলা পর্যন্ত ইনকিউবেশন ভবন তৈরি হবে। ৭ তলা ভবনটির প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৫ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে। এছাড়া ৬ তলা ভিত্তিসহ ৪ তলা পর্যন্ত ২ টি ডরমেটরি ভবন যার প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার করে দুটি ভবনে মোট ৪০ হাজার বর্গফুট এবং ৮ তলা ভিত্তির ৬ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন যার প্রতি ফ্লোরে ৬ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় আইটি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইটি শিল্পে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সুযোগ আরও অবারিত করার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে আশা করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

পছন্দের আরো পোস্ট