ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্বের দশটি দিক

ইবি প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগ রয়েছে৷শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন৷ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার৷ নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন  ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে৷ তাই ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জানা প্রয়োজন ইবির শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়:

এক.  ক্যাম্পাস ভিত্তিক বৃহত্তম, অত্যাধুনিক ওয়েব পোর্টাল ,সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ এবং  দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ এ ক্যাম্পাসেই।৷ ক্যাম্পাস ভিত্তিক সব থেকে আকষর্ণীয় বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব” ও এইখানে।আছে সর্ববৃহৎ লাইব্রেরী, দৃষ্টিনন্দন “সততা ফোয়ায়া”, মনোমুগ্ধকর “মফিজ লেক”। “মুক্ত বাংলা” ভাস্কর্য টি এখানেই অবস্থিত। রয়েছে ক্যাম্পাস ভিত্তিক বৃহত্তম “শহীদ মিনার” ও “স্মৃতিসৌধ”,রয়েছে ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন,ঝুলন্ত ব্রিজ, বোটানিক্যাল গার্ডেন(নির্মানাধীন),১৭৫ একর এর এই সুবিশাল ক্যাম্পাস যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের মিলন মেলা৷

দুই. এখানে রয়েছে ৮ টি সুবিশাল, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হল যার একটি আন্তর্জাতিক মানের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের মান অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক ভাল৷পরিবহন এর জন্য রয়েছে ৫ টি  দুই তলা বাস সহ প্রায় ৬০ টি বাস।শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ৪ টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক বাস এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷এছাড়াও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সংযোগকারী শাটল ট্রেন লাইন স্থাপনের প্রক্রিয়া আলোচনাধীন৷

তিন. এখানে রয়েছে আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র যা ইতোমধ্যে দ্বিতলায় রূপান্তর করা হয়েছে৷  জিমনেশিয়াম সুবিধা,রয়েছে  ক্রিকেট ও ফুটবল এর জন্য আলাদা সুবিশাল মাঠ,বাস্কেটবল গ্রাউন্ড,রয়েছে ১২০০ আসন এর সুবিশাল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক মানের অডিটোরিয়াম৷

চার.  এখানেই বাংলাদেশের প্রথম আই ও টি ল্যাব চালু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার যার দায়িত্বে রয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।বাংলাদেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর অদ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু চেয়ার এখানেই প্রতিষ্ঠা ও নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার নতুন দুয়ার সংযোজন হয়েছে৷

পাঁচ. এটি স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় যা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ হতে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার ব্যবধানে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক মনোরম,কোলাহলমুক্ত স্থানে অবস্থিত। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাতা লাভ করে৷ সৌন্দর্য্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশের দর্শনীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল প্রাণের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়৷যেখানে বসন্ত -বৈশাখে কৃষ্ণচূড়ার গাছগূলি যেন লাল ফুলের ডালি মাথায় পরে প্রহরীর মতো দাড়িয়ে থাকে সমগ্র ক্যাম্পাসজুড়ে৷ আরও নতুন সংযোজন হল মনোমুগ্ধকর মফিজ লেক আর গ্রীষ্মের রৌদ্রতাপে প্রশান্তির নীড় জোড়া বটবৃক্ষ চত্বর৷

ছয়. এখানে রয়েছে চাকরীর বাজারে চাহিদার শীর্ষে থাকা ফার্মেসী, এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং,ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং,ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং,জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং,আইন,ইংরেজী,ফিন্যান্স এর মত ডিপার্টমেন্ট।উল্লেখ্য এখানে বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি ৫ টি ডিপার্টমেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি দেয়া হয় তাই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন থাকলে এই  বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে স্বপ্নপূরণ এর অন্যতম সেরা মাধ্যম৷

সাত. এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে আল কোরআন এর উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রী দেয়া হয়।এ বিশ্ববিদ্যালয় এ রয়েছে এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ৷ বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মরহুম ড. আব্দুল্লাহ  জাহাঙ্গীরের মত বরেণ্য অধ্যাপক, যিনি ইসলামের প্রচারে ও মানবকল্যাণে গড়ে তুলেছেন “আস সুন্নাহ ট্রাস্ট৷ এছাড়া বর্তমান উপমহাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তরুণ গবেষক প্রখ্যাত মুফাসসির মুফতি আমীর হামযা সাহেব এবং কেন্দ্রীয় মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুহাদ্দিস আমীরুল ইসলাম বেলালী সাহেবসহ অসংখ্য আলেমে দ্বীন যারা দ্বীন প্রচারে কাজ করছেন, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন৷

আট. এখানে  রয়েছে ড. আব্দুস সাত্তার,ড. মনিরুজ্জামান,ড.জাহাঙ্গীর আলম,ড. হারুন উর রশীদ আসকারী স্যার দের মত দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক৷একুশে পদক প্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে রেকর্ড সৃষ্টিকারী খেলোয়াড় ফাহিমা খাতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যয়নরত।বর্তমানে বিদেশী  মুখরিত এই ক্যাম্পাস। রোবট,ইভিনিং প্রিমরোজ সহ ছোট বড় অসংখ্য অর্জনের গল্প নিয়ে ৪০ বছর ধরে উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

নয়. বর্তমান প্রশাসনের উন্নয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, প্রায়  ১০ হাজার গ্রাজুয়েটের উপস্থিতিতে দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাবর্তন (চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম উপাচার্য স্বর্ণপদক চালু, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ অর্গানোগ্রাম পাস এবং অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পাঁচটি অনুষদ ভেঙ্গে আটটি করণ  , ক্যাম্পাস কে র্যাগিং মুক্ত করা, অফিস সময়সূচি সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প প্রাপ্তি। ইতোমধ্যে মেগাপ্রকল্পের অনেক নান্দনিক কাজ শুরু হয়েছে৷

  দশ. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৫ একরের প্রবেশপথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরাল, বাঙালির গৌরব ও অহংকার ৫২ ও ৭১ স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মুক্তবাংলা সবাইকেই  দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে গড়ে ওঠা সর্ব বৃহৎ সেন্ট্রাল মসজিদটি পবিত্রতার প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি প্রগতিশীলতার ধারক। বন্ধুত্ব, আড্ডায় মুখর ঝাল চত্ত্বর, ডায়েনা চত্ত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের মফিজ লেক আর ঝুলন্ত ব্রিজ যেন মনের ক্লান্তি  নিমেষেই দূর করার অন্যতম আশ্রয়স্থল৷

পছন্দের আরো পোস্ট