ওয়েল ফুড হবে আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড

স্বর্ণক শাহীঃ

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ওয়েল গ্রুপ। চট্টগ্রাম ভিত্তিক ওয়েল গ্রুপের মূল ব্যবসা টেক্মটাইল। তবে ‘খাদ্য ব্যবসায়’ এসে সুনাম কুড়িয়েছে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েল ফুড’। মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে জানান দিচ্ছে বিশ্বকে।

ওয়েল ফুডের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এরই মধ্যে ৫৭টি আউটলেট চালু করেছে ওয়েল ফুড। ওয়েল গ্রুপের বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন আমাদের আলাপচারিতা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম এর সাথে।

ওয়েল ফুডের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ওয়েল গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়েল ফুড। আমাদের মোট টার্নওভারের মাত্র ১০ শতাংশ ওয়েল ফুডের ব্যবসা। এখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ আমাদের ওয়েল ফুডের ব্যবসায়ী হিসাবে বেশি চেনে। যে কারণে বর্তমানে আমরা অধিকাংশ সময় ওয়েল ফুডে দিচ্ছি। আমি মনে করি, আমাদের এই ফুড ব্যবসা অনেক দূর যাবে। বর্তমানে আমরা ব্র্যান্ড ও মান বৃদ্ধিতে কাজ করছি।

আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য হাজার কোটি টাকা রেখে যেতে পারবো না হয়তো। তবে আমি হাজার কোটি টাকা দামের একটা ব্র্যান্ড রেখে যাবো। সেই মানের ব্র্যান্ড তৈরিতেই কাজ করছি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে ওয়েল ফুড বাংলাদেশের এক নম্বর ব্র্যান্ড হবে। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হিসাবে দেখতে চায় ওয়েল ফুড।

আপনি আমাদের আউটলেটে যান মানসম্মত খাদ্যপণ্য পাবেন। আমরা সবসময় মানসম্মত পণ্য নিশ্চিতে কাজ করছি। আমরা ভাল পণ্য বিক্রি করবো ভাল দাম নিয়ে। আজকে আমেরিকার কেএফসি’কে যেমন বাংলাদেশে দেখছেন, বেকারি শিল্পে ওয়েল ফুডকে এমন ভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের এক নম্বর ব্র্যান্ড হিসাবে চিনবে।

শুরুর কথা

মালয়েশিয়া ভ্রমণে ২০০৬ সালে দেখলাম এক নতুন কনসেপ্ট; অর্ডার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রুটি-বিস্কুট-কেক ক্রেতার সামনে বানিয়ে তাৎক্ষণিক (লাইভ) বিক্রি হচ্ছে। সেই ধারণা আমাকে বেশ আকৃষ্ট করল।

স্বপ্ন বুনতে লাগলাম এই ধরনের একটি ফাস্ট ফুড-বেকারি শপ বানানোর। দেশে এসে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের ছোট্ট পরিসরে ২০০৬ সালেই যাত্রা শুরু করলাম আমার স্বপ্নের ফাস্ট ফুড শপ; নাম দিলাম ‘ওয়েল ফুড’। ব্রেড থেকে শুরু করে কেক-বিস্কুট প্রায় সব আইটেমই ছিল সেই ওয়েল ফুডে। সঙ্গে যুক্ত করলাম মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ফাস্ট ফুড শপ ‘সুগার বান’কে।

সৈয়দ নুরুল ইসলামপ্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এগিয়ে চলা

ব্যবসার শুরুর দিকে তেমন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি। কারণ ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। শুরুতেই বেশ ভালো সাড়া পেয়ে শখের শপ আর এই ছোট্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ রইল না; চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্য বানিয়ে ক্রেতার সামনে বিক্রি করা আর সম্ভব হলো না। পরিধি বাড়িয়ে এরপর চট্টগ্রামের মুরাদপুরে প্রথম কিচেন বা কারখানা করলাম। সেখান থেকেই চট্টগ্রামের শাখা খোলা এবং পণ্য সরবরাহ শুরু হলো।

একের পর এক বেড়ে চট্টগ্রামে ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে দাঁড়াল ২৬টিতে। নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখন ওয়েল ফুডের শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়িয়ে এখন আমাদের ব্যবসা উত্তরে হাটহাজারী; দক্ষিণে পটিয়া ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সুনাম কাজে লাগিয়ে আমরা রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রার পরিকল্পনা করলাম।

২০১৩ সালে আমরা প্রথম ঢাকায় গিয়ে ওয়েল ফুডের ব্যবসা শুরু করলাম। পাঁচ বছরের ব্যবধানেই রাজধানী ঢাকায় ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে এখন ২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এরপর আমরা গেলাম সিলেটে। সেখানে আমাদের শাখা রয়েছে পাঁচটি। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তিনটি বড় শহরে আমাদের শাখার সংখ্যা এখন ৫৭টি।

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক গন্তব্যে ওয়েল ফুড পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। শখের ব্যবসা দিয়ে শুরু হলেও ওয়েল ফুড দিয়েই লোকজন এখন আমাদের (ওয়েল গ্রুপকে) চেনে। আগে হাজার কোটি টাকার টেক্সটাইল ব্যবসা করলেও কেউ আমাদের চিনত না। ওয়েল ফুডের সেই চেনার জায়গাটাতেই আমরা কাজ করছি। উদ্দেশ্য আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো।

বর্তমান 

বর্তমানে ওয়েল ফুডের ব্যবসা মাসে গড়ে আড়াই কোটি টাকা। ওয়েল ফুডের আউটলেটভিত্তিক ব্যবসাকে আমরা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। কয়েক বছরেই দ্রুত কয়েক শ কোটি টাকার ব্যবসা করব এমনটা চিন্তা করি না। কারণ ওয়েল ফুডের ক্রেতা হচ্ছেন উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এই ক্রেতার রুচি-ধরনও আলাদা। তাদের টার্গেট করেই আমরা মান-স্বাদ বজায় রেখেই সামনে এগুচ্ছি। তাই সঠিক মান ও ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রেখে ব্যবসা করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

পছন্দের আরো পোস্ট