অনুভবে বন্ধু!

শাহজাহান নবীন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার আবেগ ছিল সাড়ে শ টন। যখন যে উপলক্ষ আসতো মেতে উঠতাম। আগপাছ না ভেবে নাচানাচি, হই হুল্লোড়ে লেগে যেতাম। নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা হাসির পর্যায়ে পৌছবে ভেবে কখনো কোন আনন্দের জলসায় নিজেকে গুটিয়ে রাখিনি।

খোড়া চাচার চায়ের দোকান, মুজিব হলের পুকুর পাড়, মুটুরী খালা, মেম্বার চাচা, সোবহান মামার দোকানের আড্ডা ছিল আমার প্রাণ। আমার সহপাঠী বন্ধুদের একটা লিমিটেড সার্কেল ছিল। ওরা সময় মেনে আড্ডা দিত। আমি তখন উই পোকা। আমার উপর তখন বৃষ্টির পানি পড়তেই থাকতো। আর উই পোকার গর্তে বৃষ্টির পানি পড়লে কি হয় তা সবারই জানা।

আমার আড্ডা দেয়ার মত বন্ধুদের অধিকাংশই ছিল অন্য বিভাগের। যে কারণে আমার সহপাঠী বন্ধুরাও আমাকে তাদের কাছে খুব একটা পাওয়া যাবে বলে ভাবতো না। আমিও তখন এখনকার মত ভাবিনি। আমার আড্ডাবাজ সেই সব বন্ধুরা আজ কে কোথায় জানিনা। তবে আমি যাদের সাথে কম সময় দিয়েছি, তারা কে কোথায় আমি জানি। আমার এখন খুব জানতে ইচ্ছে করে আমার সহপাঠী বন্ধুরা কে কেমন আছে? আমি খুব অনুভব করি ওদের।

প্রথমবর্ষের স্মৃতি বড় হিংস্র। শুধু কষ্টের থাবা বসায় বুকে। শিমন উমা, ছানজানি গাড়ির পেছনে দরজায় দাড়িয়ে গানের বারোটা বাজানো, বন্ধু লাল ও সোহেলের ঘুমের প্রতিযোগিতা, লম্বা মামুনের সুখটান, সব কিছুই আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করে।

চকলেট মামুনের বড় গুন ছিল ম্যানেজিং ক্যাপাবিলিটি। ও সব সময় জো তুলে দিত। বাকিটা আমাদের কাজ। মনে রিজভির গান, হাসিবের ইন্দুবালা। মনে পড়ে জুলহাসের অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তারিকের চুরি করে ডিম খেয়ে ফেলা। খুব মনে পড়ে ইসমাইলের বিরিয়ানীর ঘ্রাণ, নওরিনের ঘোড়া লাথি।

মনে পড়ে তনা রায়ের স্লোগানের তেজ, হাসানের কুইজ কুইজ গেম, সোহানের চোখে নিত্য নতুন চশমার ফ্রেম। যদিও অধিকাংশ সময় চশমা তার টিশার্টএর পেছনে গুজা থাকতো। সোহরাবের বেলি ড্যান্স ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি খুব মধুর লাগে এখন। লালের প্যাডেল ড্যান্স, দেবের চিত্র কলা, সুজিতের রোশন ড্যান্স। আশিকের সাথে অবশ্য আমার বেশ জমতো।

আমি খুব অনুভব করি তোদের। যাদের নাম এখানে লিখতে পারলাম না সময়ের অভাবে তোরাও আমার মনের মাঝেই। কিভাবে যে আবার এক হবো সবাই সেই অভাবেই আমার এখন দিন কেটে যায় আফসোসে। বন্ধু তোরা, বন্ধু আমার, বন্ধু মোরা ক’জন। তবুও বন্ধু…..

পছন্দের আরো পোস্ট