ক্লান্তিহীন ডেকে যাওয়া দাগি-বসন্ত বউরী

। নুরুন্নাহার নাফিসা।

ছোট ছোট শব্দে বিরামহীন ডাক! কয়েক বার নয়, অসংখ্যবার। যারা এ ডাকটি শুনতে থাকেন তারা বরং শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ডেকে যাওয়া এই পাখিটি কখনো ক্লান্ত হয় না। দূরে থেকে ডাকছে গাছের ডালে ডালে ডাকছে তো ডাকছেই।

এই ডাক প্রতিধ্বনিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। তবে তার দেহ সবুজ থাকায় এরা পাতার সঙ্গে মিশে যায়। সহজে দেখা যায় না। তবে ডাকের প্রতিধ্বনি অনুমান করা যায় যে, গাছের এই দিকটা থেকে পাখিটির ডাক শোনা যাচ্ছে।নাম তার দাগি-বসন্ত বউরী

দাগি-বসন্ত বউরী, ইংরেজি নাম Lineated Barbet এবং বৈজ্ঞানিক নাম Megalaima lineata। ‘বারবেট’ প্রজাতির প্রায় সব পাখিগুলোই ক্রমাগত ডাকের জন্য সেরা। প্রজনন মৌসুমে সঙ্গীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তার এই বিরামহীন ডাকের প্রতিযোগিতা!

দাগি-বসন্ত বউরীবাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানান, এই ‘দাগি-বসন্ত’ আকারে শালিকের চেয়ে বড়। এরা ছোট মাঝারি আকারের বৃক্ষচারী পাখি। তাদের রয়েছে শক্ত ও মোটা ঠোঁট এবং তীক্ষ্ণ নখ। আকারে এরা ৩৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১৫৫ গ্রাম।

এর শারীরিক বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরা পাতার রঙের মতো শরীরের বেশিভাগ অংশই সবুজ। বস্তুতপক্ষে ডানা, পেট ও লেজ সবুজ। তবে এর শরীরে সবুজ ছাড়াও অন্য রংগুলো হলো- খয়েরি ও সাদা। হালকা খয়েরি রঙের মাথা, ঘাড়, পিঠ ও বুকে সরু আকৃতির সাদা দাগ। ছেলে এবং মেয়ে পাখি চেহারা অভিন্ন।

দাগি-বসন্তের স্বভাব সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, এরা সব ধরনের বন, খোলা বনভূমি, উদ্যান ও গ্রামে বিচরণ করে। সাধারণত একা, জোড়ায় বা বিচ্ছিন্ন দলে দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে এরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে অবিরাম ডাকাডাকি করে। খুব জোরে বনের চারদিক প্রতিধ্বনিত করে ডাকতে থাকে- ‘কুরুক-কুরুক-কুরুক’।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এ পাখিটির বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। নানান রকমের ফল এবং ফুলের মধু, ইউপোকা, লার্ভা, টিকটিকি এবং গেছো ব্যাঙ প্রভৃতি এর খাদ্য তালিকার অন্যতম খাবার বলে জানান প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

নুরুন্নাহার নাফিসা

পুরস্কার জয়ী ওয়াইল্ড ফটোগ্রাফার নুরুন্নাহার নাফিসা

পছন্দের আরো পোস্ট