ক্যাম্পাসের স্মৃতিঘেরা দিন র‌্যাগ ডে

ইয়াজিম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি:

ক্যানভাসের মতোই সাদা টি শার্টে একদল তরুণ শিক্ষার্থী। তাতে আবিরের নানা রঙে রাঙানো আর মার্কারে লেখা স্মৃতির শব্দচিত্র। যেনো সাদা আকাশের বুকে রংধনুর খেলা। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের চারটি বছরের স্মৃতির স্বাদ ফুটে তুলেছে একটি টি শার্টে। সম্মান শেষ! আর সেজন্য এরূপ আনন্দ! অবাক হলেও প্রকৃতপক্ষে সম্মান যোগ হওয়ায় এমন বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাবাদিকতা বিভাগের ২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্মৃতিময় একটি দিনের কথা।

বসন্তের কুয়াশা মোড়ানো সকালবেলা। সূর্যের আলো তখনও চারপাশে ছড়িয়ে পরিনি। জানতে চেয়েছিলাম সকালে কেন এই আয়োজন? তাদের একজন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল হোসেন বললেন, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন একাডেমিক সময় সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র বাজানো, সাউন্ড বক্স ব্যবহার ও মাইকিং বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সময়ে র‌্যাগ ডে’র আয়োজন করেছি।

বিশ^বিদ্যালয়ে সাধারণত এই সময়ে র‌্যাগ ডে উদযাপন কখনও চোখে পড়েনা। বেশিরভাগ সময়ই একাডেমিক সময় কিংবা দুপুরের বিরতির মাঝে করতে দেখা যায়। এতে করে পরীক্ষায় অংশ নেয়া বা ক্লাসে বসে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যাহত হয়। সেই অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ব্যতিক্রমী র‌্যাগ ডে উদযাপন করেছে।

শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে তারা একে অপরের টি-শার্টে মনের অগোছালো কথাগুলো রঙিন কালি দিয় লিখছে। অনেকেই লিখেছেন- ভালো ছেলে, বন্ধু ভাল থেকো ও মনে পড়বে তোমায় আবার কেউ লিখেছেন ফাঁকিবাজ, ঘুমবাবু ও অলওয়েজ লেট। এই কথাগুলো বন্ধুদের টি-শার্টে লিখে তারা স্মরণীয় করে রাখতে চাই । এরপর সেখানে তারা গানের তালে দলবদ্ধ হয়ে নাচতে থাকেন।

আগে থেকেই কয়েকটি গানের কাটা অংশ জোড়া দিয়ে পাঁচ মিনিটের গান বানিয়েছে। নয়টা বাজতেই তারা একাডেমিক ভবনের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ হবিবুর রহমান হলের মাঠের এক কোণে চলে যায়। সেখানে তারা একে-অপরকে আলতো ছোঁয়ায় বিভিন্ন রঙের আবির লাগিয়ে দিতে থাকে।

র‌্যাগ ডেঅনেকেই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লে কেউ এসে জোর করে তুলে বলছে- ‘কিরে বসে আছিস কেন?’ একসময় ফরিদ-মমিন নামের দুইজন শিক্ষার্থী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে থাকেন এবং র‌্যাগ ডে’তে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অনুভূতি জানতে চাওয়া হয়।

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আলমগীর বলেন, আমি খুব আগ্রহী ছিলাম র‌্যাগ-ডে’র জন্য। ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি দিন হাসি-আড্ডায় কাটিয়ে দেয়ার। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমরা এইরকম আড্ডায় মিলিত হতে পেরেছি বলে খুব ভালো লাগছে।

এরপর একে একে আনন্দ আড্ডার কথা বললেন- জয়শ্রী, পুষ্প, শহিদ, রিয়া ও সুজনসহ অনেকেই। এরপর তারা দলবেধে ক্যাম্পাসে হাঁটতে থাকে। সাদা রঙের একই টি-শার্ট পরিহিত এই শিক্ষার্থীর দলকে দেখে অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন। কোন ধরনের র‌্যালি হচ্ছে না আবার বাদ্যযন্ত্রেরও ব্যবহার নেই। ঘুরতে ঘুরতে তারা প্যারিস রোড, প্রশাসন ভবন ও প্রিয় বিভাগ প্রাঙ্গনে একসঙ্গে ছবি তুললেন। এরপর সবাই যার যার মতো রুমে ফিরলেন।

বিকেলে একডেমিক সময় শেষ হলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ড. জোহা চত্বরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এরপর অটোযোগে যেয়ে রাজশাহী নগরের একটি রেস্টুরেন্টে সেদিনের রাতের খাবার সেরে নেন। ব্যস্ত একটি দিন শেষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় দিলেন। সবাই বললেন, সময় খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে…।

 

ইয়াজিম পলাশ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পছন্দের আরো পোস্ট