নাচেই রিমির পরিচয়

সাইফুল মজুমদারঃ
সাধারণ নৃত্য থেকে শুরু করে ভারত নাট্যম, কত্থক বা লোকনৃত্য সব ধরনের নাচের তাঁর দখল রয়েছে। নিজে নাচেন, নাচ শেখান। গত দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে সবার মন জয় করেছেন। তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয় নৃত্যধারা ক্লাবের সভাপতি। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচ কন্যা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর নাম রোখসানা রহমান রিমি। এসবের মধ্য দিয়েই তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন।
২০১৪ সালে মতিঝিল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি এবং মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন তিনি। অপরাধতত্ব বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ‘নৃত্যশিল্পী’ পরিচয়টা তিনি কখনো হারাতে চান না। বাড়ি টাংগাইল এর মির্জাপুর উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই বড় হয়ছেন ঢাকায়।
স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ করে মেলে ধরেছেন নিজের প্রতিভাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের বিভাগ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত মঞ্চ, র‍্যাগ ডে, বিজয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার।
রোখসানা রহমান রিমিপাঁচ বছর বয়সে নাচে হাতেখড়ি। এরপর আর নাচের সঙ্গে বিচ্ছেদ আর হয়নি। বাড়ি থেকে উৎসাহ তেমন ছিলো না। বিশেষত বাবা একদমই রাজি ছিলো না। বাবা শুধু পড়াশোনা পড়াশোনা করত। তবে মা আমাকে অনেক সাপোর্ট করত। আমি কারও কাছে কখনই নাচ শিখিনি। ইচ্ছা ছিল ছোটবেলায় কিন্তু পড়াশোনায় ক্ষতি হবে বাবা তা করতে দেয়নি। তবে টিভি, ইউটিউব থেকেই আমি নাচ শিখি। এবং ছোটবেলা থেকেই সারাদিন প্রচুর নাচি। ছোট থেকেই টিভি দেখে নাচ শিখতাম। বাসায় কেউ না থাকলে আয়নার সামনে গিয়ে একা একা নাচতাম। কথাগুলো বলেছিলেন রোখসানা রহমান রিমি।
দ্বিতীয় বর্ষে পড়া হাস্যজ্বল চেহারার এই মেয়েটিকে ছোট-বড় সবাই চেনে ক্যাম্পাসে। তাকে ছাড়া যেন ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা কোনো কিছুই সম্পূর্ণ হয় না। আর তার এই সব কিছুর পিছনে যাদের উৎসাহ বা অবদান তা সম্পূর্ণ বন্ধু-বান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং পরিবারের। অপরাধতত্বের শিক্ষার্থী  হলেও ইচ্ছা আছে নাচের স্কুল খোলার। শুধু নিজের জন্যই নয় ভাবেন সাধারণ মানুষের কথাও। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সাইফুল মজুমদার । মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পছন্দের আরো পোস্ট