ড. রাশিদ আসকারীর সফলতার দুই বছর

ব্যাপক উন্নয়ন ও সফলতার মধ্যদিয়ে দুই বছর অতিবাহিত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। তিনি ২০১৬ সালে ২১ আগস্ট ৪ বছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেন।

ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানকালে প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী অবহেলিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকমানের গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এছাড়া তিনি দুর্র্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নেরও ঘোষণা দেন। তাঁর এ ঘোষণাটি তখন সকলের নিকট অবিশ্বাস্য হলেও মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে চাহিদা সম্পন্ন নতুন নতুন বিভাগ খোলাসহ একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে দ্রুত গতিতে। এছাড়া প্রধান গেট চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব” নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর নিয়োগ, সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধসহ বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে তিনি দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচিত। এমনকি রাষ্ট্রপতি,  শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসি’র চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রসংশিত হয়েছেন তিনি। আজ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুকরণ করতে শুরু করেছে।

ভাইস চ্যান্সেলরকে সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে চলেছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। বিগত দিনে কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান প্রশাসনের তিন কর্তাব্যক্তি এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলায় সকল কাজ দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে (১৯৭৯ সালে) প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। জন্মলগ্ন থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ ভাইস চ্যান্সেলরের যোগ্য নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শতভাগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ক্যাম্পাসে সকল আদর্শের এবং সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান বজায় রয়েছে। ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে ব্যাপক পরিসরে। ড. আসকারী সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে সক্ষম হয়েছেন। আর এ কাজে তাঁর সাথে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম। তবে এ সফল্য অর্জনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহযোগিতাও অনস্বীকার্য।

ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র ২বছরের উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।  তাঁর উন্নয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ঃ-

প্রায় সাড়ে ৯ হাজার গ্রাজুয়েটের উপস্থিতিতে দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাবর্তন (চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮) সফল ভাবে সম্পন্ন, সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ (যা মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসি’র মাননীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রসংশিত হয়েছে), অফিস সময়সূচি সম্প্রসারণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম ৫০০ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প প্রাপ্তি, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর নিয়োগ, বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব” এবং দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা নির্মাণ, সেসনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপহার, নিরাপত্তা রক্ষার্থে ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, বিশ্ববাজারে চাহিদা সম্পন্ন ৮টি নতুন বিভাগ খোলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্ণার, মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার ও একুশে কর্ণার স্থাপন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের নাম করণ, ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্তকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা, পরিবহন পুলে ৮টি গাড়ি সংযোজন, বিদেশী অতিথিদের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিকমানের সেমিনার আয়োজন, চায়না সাউথ এন্ড সাঊথ এশিয়ান রেক্টর্স ফোরামের সাথে অন্তর্ভূক্ত হওয়া, ব্রুনাই টঘওঝঝঅ এর ৮ম সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা, নিয়োগ ও ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ, মেধাসম্পন্ন ও দক্ষ জনবল নিয়োগ, বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি,  প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রীণ ক্যাম্পাস তৈরীতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা, ব্যাপক পরিসরে জাতীয় দিবসসহ পহেলা বৈশাখ ও বসন্তবরণ উৎসব  পালন। এছাড়াও দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের ৫ তলা বিশিষ্ট বি-ব্লক নির্মাণ, ৫ তলা বিশিষ্ট শেখ রাসেল হল নির্মাণ, ২ তলা বিশিষ্ট রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, কেন্দ্রীয় মসজিদের সম্প্রসারণ, ৫ তলা বিশিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোয়াটার নির্মাণ, ৪ তলা বিশিষ্ট প্রভোস্ট কোয়াটার নির্মাণ, গেস্ট হাউজ উর্ধমুখি সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের ২য় তলা সম্প্রসারণ, ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ।

ড. রাশিদ আসকারীর আগামীর উন্নয়ন পরিকল্পার মধ্যে রয়েছেÑ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়কে একটি পরিপূর্ণ আবাসিক বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত করা, প্রতিটি ফ্যাকাল্টি এবং বিভাগকে একেকটি গবেষণা দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলা, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে ছাত্র-শিক্ষক বিনিময় এবং কোলাবরেটিভ রিসার্চ করার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা, বিশ^বিদ্যালয়ের সামনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ কানেকটিং শাটল ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ভিত্তিক করা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া, গ্রাজুয়েটস মার্কেটেবিলিটির হার বাড়ানোর জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং কার্যক্রম চালু করা, ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক টাউনশিপ গড়ে তোলা, দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ দানের মাধ্যমে মেন্টাল হেলথ কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, ইবি প্রেসে পাবলিকেশন উইং প্রতিষ্ঠা এবং ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

সফলতার দুই বছর সম্পর্কে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদের প্রতি, কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এবং ইউজিসি’র মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নানের প্রতি। তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা না থাকলে অতি অল্প সময়ে এত উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, দুই বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে এ উন্নয়নে আমি তুষ্ট নই। আমাদের দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ চলছে, আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীরণের যুদ্ধে আমরা নেমেছি, এ যুদ্ধে আমার সাথে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং ট্রেজারার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা এগিয়ে চলেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশারাখি সকলের সহযোগিতায় অচিরেই আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো।

পছন্দের আরো পোস্ট