এইচ এস সি রেজাল্ট সমাচারঃ যশোর বোর্ড

শিক্ষাবোর্ডের নাম, যশোর। প্রতিবারই নতুন চমকের সৃষ্টি করে আলোচনায় আসে ১০টি জেলার সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণবঙ্গের এই শিক্ষাবোর্ড।

২০১৫ সালের এইচ এস সি রেজাল্টে ভরাডুবির পর ২০১৬ সালে ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ পাশের হার নিয়ে দেশসেরা হয় যশোর বোর্ড। ২০১৭ সালে তা প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গিয়ে ৭০ দশমিক ০২ শতাংশ হয়। এবারও অবনতির ধারা অব্যহত রেখেছে যশোর বোর্ড।

গত ১৯ জুলাই এইচ এস সি ২০১৮ সালের রেজাল্ট দেশের মোট ৭টি শিক্ষাবোর্ডে একযোগে প্রকাশ করা হয়। সেখানে যশোর বোর্ডের অবস্থান ৬ষ্ঠ, পাশের হার ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের নিয়ন্ত্রক মাধব রুদ্র এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান, “এ বছর কোন প্রকার প্রশ্নফাঁস হয়নি, এ জন্য কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পাস কমে গিয়েছে”।

তিনি আরও বলেন, এ বছর খারাপ রেজাল্টের পেছনে ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। শুধুমাত্র ইংরেজিতে খারাপ করার কারণে অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বছর যশোর বোর্ডের অধীনে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৬শ’ ৯২ জন এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে সকল বিষয়ে পাশ করেছে ৬৬ হাজার ২শ’ ৫৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থী।

অন্যান্য বোর্ডের মত যশোর বোর্ডেও পাশের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে ছাত্রীরা। যশোর বোর্ডে এবার বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধীনে যথাক্রমে ১৯ হাজার ৩শ’ ০৪, ৬৮ হাজার ৮শ’ ৯৮ ও ২১ হাজার ৪শ’ ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং তাদের পাশের হার যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৯১, ৫১ দশমিক ৮৬ ও ৬৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানবিক বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের অধিকাংশের ফেলের বিষয় হল ইংরেজি। এ বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর খারাপ রেজাল্ট বোর্ডের সামগ্রিক রেজাল্টেও প্রভাব ফেলেছে।

যশোর বোর্ডের অধীন মোট ৪টি কলেজের কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। তাদের মধ্যে একটি “প্রগতি মডেল কলেজ, ঝিনাইদহ”, সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের সকল শিক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে।

আবার, ঝিনাইদহেই অবস্থিত, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের পাশের হার ১০০%। সেখানে মোট ৫১ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়াও, খুলনাতে- মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, যশোরে- ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, সরকারী এম এম কলেজ, আকিজ কলেজিয়েট স্কুল তাদের উন্নতির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

যশোর বোর্ডের অধীনে ১০টি জেলার পাশের হারঃ খুলনা- ৬৮ দশমিক ৪৫, যশোর- ৬৩ দশমিক ৯৫, কুষ্টিয়া- ৬১ দশমিক ৪২, সাতক্ষীরা- ৫৯ দশমিক ৯৬, বাগেরহাট- ৫৯ দশমিক ৬৭, ঝিনাইদহ- ৫৭ দশমিক ৯৭, চুয়াডাঙ্গা- ৫২ দশমিক ৯০, মেহেরপুর- ৫২ দশমিক ৬৯, নড়াইল- ৫২ দশমিক ৫৬ এবং মাগুরা- ৪৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

পছন্দের আরো পোস্ট