লাল-সবুজের প্রতি মায়ায় ভরা কামরুজ্জামান

মানুষের জীবনের গতিপটে যেমন রয়েছে প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে বিপরীত্য, আবেগ যেমন ছুঁয়ে যায় একজন মানুষের প্রতিটি কাজকে ঠিক একইরকম ভাবে স্বদেশের প্রতি বিরামহীন ভালোবাসা এদেশে প্রচুর মানুষের অনেক আগে থেকেই ছিলো। ভিনদেশে গিয়ে দেশের মানুষের কথা ভাবার মত মানুষ কম থাকলেও সরাসরি দেশের ভাষা, দেশের মানুষের ঐতিহ্য আর দেশের লাল-সবুজকে ভালোবাসা একজন মানুষকে নিয়েই আজকের গল্প।।তিনি শিক্ষাবিদ, লেখক কামরুজ্জামান।
বলা হয়ে থাকে,জার্মানীতে প্রথম তিনি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশের জন্য ১৯৯৮ সালে কম্পিউটারের মাধ্যমে বাংলা মূদ্রণ ব্যবস্থার প্রচলন করেন।এরআগে জার্মানীতে হাতে লিখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের দাওয়াত বিলি করা হতো।২০০০সালে জার্মানীতে মূদ্রিত ও প্রকাশিত প্রথম ম্যাগাজিন “নিস্বন” তার সম্পাদিত, ২০০৩ সালে তিনি সংবাদ ভিত্তিক ম্যাগাজিন “বাঙলা” এর সম্পাদনা শুরু করেন সূদুর জার্মানীতে।
মোদ্দাকথা, জার্মানীতে বাংলা ভাষার আবির্ভাবে সাহিত্য প্রেমি বাঙ্গালী ও সংগঠকদের মধ্যে কর্ম চঞ্চলতা বাড়ে। গর্বের বিষয় রয়েছে আরো,  ২০০০ সালেই তিনি রচনা করেন “এসো বাংলা শিখি” নামে ১৪৬পৃ: এর শিশু পাঠ্য বই, যা ২০০৪ সাল থেকে লন্ডন টাওয়ার হেমলেটস এর অধীনে সমস্ত শিশু বিদ্যালয়ে পাঠ্য বই হিসেবে স্থান পায়। এছাড়া ইংরেজি হাতের লেখা সুন্দর করতে তার একটি প্রকাশনা পুরো প্রবাসী বাঙ্গালীদের মধ্যে আলোড়ন সৃস্টি করে,  নাম ” Better Handwritting Book”।
এবার জানবো তার জার্মানী যাবার গল্প। ১৯৫৮ তে চট্টগ্রামে জন্ম তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাউন্টিংয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি এসএসসির পরে হলেও স্নাতক পেরুণোর পর দৈনিক অনির্বাণে কাজ শুরু করেন, তখনকার সময়ে সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা না থাকায় কাজ শুরু করেন ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন “বিদ্রোহী বর্ণ” এর।
একসময় চাকুরী ছেড়ে দেন, শুরু করেন আমাম সী ফুডের একাউন্টেন্ট হিসেবে।  তাও তার মন বসলোনা, শুরু করলেন শিক্ষকতা। এভাবেই বারবার বাঁক নিয়েছে ক্যারিয়ার, ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এভাবেই। ১৯৭৭ সালের আগে ভাবলেন নিজের পত্রিকাটির অর্থের যোগান আর ফেলোশীপ করতে বাইরে যাওয়ার দরকার, পাড়ি জমালেন ইউরোপের “জার্মানী”তে। সেখানে শুরু হয় অন্য জীবন, অনেক কাঠখড় পেড়িয়ে ১৯৯৩ তে জার্মানীতে আবাসিক ভিসাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ তে আমেরিকার দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা পেয়েও স্ত্রীর অসুস্থতা আর দেশে বাবা মা ভাই-বোনদের অস্বচ্ছলতায় জার্মানীতেই কর্মরত থাকবার সিদ্ধান্ত নেন।
 ২০০৬ সালে কামরুজ্জামান বাংলাদেশ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প নামে জার্মানীতে একটা সাহায্য সংস্থা স্থাপন করেন। রাস্তার বিভিন্ন মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতো দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে বই এবং নগদ অর্থ প্রদান কাযক্রম বাস্তবায়ন করেন তিনি। তার প্রকাশিত প্রথম  উপন্যাস “নিশিতে প্রতিচ্ছায়া”, দ্বিতীয়টি “প্রেমাত্তা”,  তৃতীয়টি “কবির জোছনায়”। পর্যায়ক্রমে ২০০৪ বইমেলায় ১ম দুটি,  শেষটি ২০০৯ বইমেলায় প্রকাশ হয়।
ব্যক্তিজীবনে সফল মানুষটি ২০০৮ সালে খুলনা রাইটার্স পদকে সম্মানীত হন, ২০১০ সালে ড.মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্ ও মাদার তেরেসা স্বর্ন পদকে ভূষিত হন তিনি।
বাংলাদেশের সবার জন্য তার রয়েছে অকৃত্তিম ভালোবাসা।বেশকিছু সামাজিক কার্যক্রম রয়েছে তার পুরো দেশে।
পছন্দের আরো পোস্ট