কে হচ্ছেন রুয়েটের নতুন উপাচার্য ?

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল- রুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শিক্ষক রাজনীতি বেশ জমে উঠেছ। কিছু শিক্ষক চাচ্ছেন রুয়েট থেকেই নিয়োগ দেয়া হোক নতুন উপাচার্য। তবে বেশীর ভাই শিক্ষক চান রুয়েটের প্রশাসনিক, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে বুয়েট অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রভাবশালী শিক্ষককে এখানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছেন, আগামী ২৮ মে শেষ হচ্ছে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর মোহা: রফিকুল আলম বেগের মেয়াদ। তিনি দ্বিতীয় বারের মত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেনদরবার করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনি জোর তদ্বির চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রুয়েটে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মর্ত্তুজা আলী উচ্চ পর্যায়ে বেশ যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তিনি এর আগে রুয়েটে প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে বেশ ভালভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন তিনি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দাযিত্বও অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।

তিনি রুয়েট বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের এক কাতারে নিয়ে এসেছেন। তাছাড়া তিনি রুয়েটে আওয়ামী লীগ বলয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। প্রফেসর মর্ত্তুজা আলীকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে আইবিএ’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেনদরবার করছেন বলেও জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) এর পরিচালক প্রফেসর মো: শহীদ উজ জামান, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর শামীমুর রহমান এবং পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. তারিফ উদ্দীন আহমেদও উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে রুয়েটে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ চাচ্ছেন নতুন উপাচার্য হিসেবে বুয়েট অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী কোন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হোক। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, রুয়েট থেকে উপাচার্য হওয়ার মত আওয়ামী লীগের সমর্থক প্রভাবশালী ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক এই মূহুর্তে নেই। রুয়েটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বুয়েট থেকে প্রভাবশালী শিক্ষকদের রুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এরফলে রুয়েট নানা দিক দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু দু’দফায় রুয়েটের শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রুয়েট অনেকাংশে পিছিয়ে গেছে। এখানকার শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলে তারা রুয়েটের উন্নয়নের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেন না। তাঁদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর নির্ভর করতে হয়। এতে প্রশাসনিক কর্মকান্ডে নানা জটিলতা তৈরী হয়।

শিক্ষকদের এই অংশটি মনে করেন, বুয়েট থেকে সম্ভব না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ থেকে সরকার দলীয় প্রভাবশালী কোন শিক্ষককে রুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক। কেননা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক বিভাগ এবং ইন্সটিটিউট রয়েছে যেগুলোতে সরকারপন্থী অনেক প্রভাবশালী শিক্ষক রয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের কোন প্রভাবশালী শিক্ষকে রুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি রুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা উপ-উপাচার্য পদে এখানকার কোন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হোক। তাহলে রুয়েটের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
####

মডারেটর
ভয়েস অব রুয়েট

পছন্দের আরো পোস্ট