এক ঝাঁক তরুণের গল্পে আমরাই জাবিয়ান

অনিন্দ্য সাহা প্রিয়

সন্ধ্যা নামলেই চারদিকে ঝিঝি পোকার শব্দ,নয়নাভিরাম প্রাকৃতি সৌন্দর্য আর বৃক্ষরাজিতে ঘেরা দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি)। লাল ইট আর সুউচ্চ সৌধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন এক নতুন দিগন্ত দান করেছে । পাখপাখালির কলরব আর শিক্ষার্থীদের সমারোহ দিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়কে এক স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করেছে।

অনিদ্র সাহা প্রিয়বর্তমানে ৭টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগ এবং ৪ টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। অনুষদগুলো হল কলা ও মানবিক, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক, সমাজ বিজ্ঞান,জীববিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা ও আইন অনুষদ । বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হল সংখ্যা ১৪ টি, এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ৭টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৭টি হল রয়েছে। আরো দুইটি হল বর্তমানে নির্মণাধিন রয়েছে। যা একটি ছাত্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত, আরেকটি ছাত্রীদের জন্য বরাদ্ধকৃত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ছোট বড় অনেক স্থাপনা। এখানে রয়েছে দর্শনীয় ‘অমর একুশে’ যা ভাষা শহীদদের সম্মানে নির্মিত। ‘সংশপ্তক’ যা মহান স্বাধীনতার পরিচয় বহন করে। এছাড়া আছে  ‘মুক্তমঞ্চ’,’জহির রায়হান অডিটোরিয়াম’ এবং দেশের সবচেয়ে উঁচু ‘শহীদ মিনার’ সবুজের সমারোহসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকড়, যা নিমিষেই যে কারো মন জুড়িয়ে দেয়। ঋতুর পালাক্রমে হেমন্তের বিদায় নেওয়ার পরপরই সকালের কুয়াশা তার শীতের বার্তা নিয়ে হাজির হয় আর সাথে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাসে লাগে শীতের ছোঁয়া। ক্যাম্পাসের লেকগুলো তখন লাল পদ্ম ফুলে ভরে ওঠে। প্রকৃতির এমন উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ আঙ্গিনার লেকগুলোতে আসতে শুরু করে অতিথি পাখি।

সুহাসিনী পিয়াসুহাসিনী পিয়া

হ্যা, আমি সত্যিই অনেক বেশি গর্বিত কেননা এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছায়াতলে নতুন করে জন্ম নিয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আমি মনে করি, এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আমার  দ্বিতীয় আতুর ঘর, ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় আমার এই ক্যাম্পাস। আমি আমার ক্যাম্পাসে রাতের বেলাতে একা চলতে নিজেকে  কখনো অনিরাপদ মনে করি না। এখানে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কোন সংকোচ নেই। আর এই  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীর মধ্যে যে বন্ধন তা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়তে আছে কিনা বলে আমার সন্দেহ আছে। সব থেকে অবাক বিষয় আমি যখন  কোন কারনে অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে  যায় আমার বিভাগের বড় ভাই আপু,বন্ধু-বান্ধবী, জুনিয়র ভাই বোনরা আমাকে দেখতে গিয়েছে তাতেই আমি অর্ধেকটা সুস্থতা বোধ করেছি।

সাব্বির আহমেদসাব্বির আহমেদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার । স্থপতি রবিউল হুসাইনের তত্বাবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সম্মুখে ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের ও ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসাবে ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারটি অবস্থিত। ৮টি সিঁড়ি ও ৩টি স্তম্ভ বিশিষ্ট; দৃঢ়তার প্রতীক ত্রিভুজ আকৃতির ঋজু কাঠামোটিতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য মহান বীর শহীদ-গণের আত্মত্যাগের মহিমা বিধৃত হয়েছে। ৮টি সিঁড়ি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৮টি তাৎপর্যপূর্ণ বছর ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সাল-গুলোর এবং তিনটি স্তম্ভের একটি বাংলাভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অপর দুইটি মাটি ও মানুষ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য  সংশপ্তক। এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার উর্ধে তুলে ধরেছেন । এর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান । সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ভাস্কর্য অমর একুশে । এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন ।

রাতুল বিশ্বাসরাতুল বিশ্বাস

অতিথি পাখির আগমনে উচ্ছসিত ক্যাম্পাস। শাপলা ফুলে ভরা লেক কি সুন্দর,চেয়ে থাকি অপলক,সুইমিংপুলে আছে পুল  ঃ হয় না কবু গোসল, মনপুরাতে মন উড়ে যায় ওয়াও। হোয়াট এ ফিলিংস। সব শেষে বলি, হে প্রিয় ক্যাম্পাস। বিচিত্রতায় ভরপুর তুমি কি সুন্দর তোমার রুপ, পান করে যৌবন সুধা আমি হয়ে যাই পাগল-পারা ।

রইসুল ইসলাম অমিরইসুল ইসলাম অমি

উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, আনন্দন,জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, উত্থানপাঠ, প্রপদ, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, কহনকথা, অস্তিত্ব প্রভৃতি।

রুদ্র আজাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। আল বেরুনী হল আসন ৫০০+, স্থাপিত ১৯৭০। ১ঌ৬৮-৬ঌ সালে ১২৮ কক্ষ বিশিষ্ট ৪(চার) তলার এই ছাত্রাবাসটি নির্মিত হয়৷ ১ঌ৭ঌ সালে খ্যাতনামা জ্ঞানসাধক `আল-বেরুনী’র নামানুসারে এই হলের নামকরণ করা হয়৷এই হল এ একটি মূল ভবনের পাশাপাশি একটি সম্প্রসারিত ভবন ও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে মহিলাদের জন্য আলাদা কোন হল না থাকায় আল বেরুনী হলের সংগে সংযুক্ত করে ১ঌ৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে মোট (তেইশ) জন ছাত্রীর নামে হলে সিট বরাদ্দ করা হয়; ১ঌ৭৮ সনে ছাত্রীদের জন্য ১টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হল (নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল) নির্মিত হলে আল বেরুনী হলের ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করা হয়৷ মীর মশাররফ হোসেন হল “মীর মশাররফ হোসেন হল” ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নির্মিত হয়েছে ১৯৭৩ সালে। ১ঌ৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল অনষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে হলটির নাম করণ করা হয় “মীর মশাররফ হোসেন হল”৷ প্রজাপতির প্রতিকৃতিতে নকশাকৃত এই হলটির স্থপতি ছিলেন, মাজহারুল ইসলাম।

রুদ্র আজাদশহীদ সালামবরকত হল আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৭। ১ঌ৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বৃহত্তম এই হলের যাত্রা শুরু হয় ও ১ঌ৮৫ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১০৬তম সভায় নাম রাখা হয় শহীদ সালাম-বরকত হল৷ . . . কামালউদ্দিন হল আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৬। ১ঌ৮৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এ হলেরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্‌কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন; কাজ শেষ হয় ১ঌ৮ঌ সালের ৩১ ডিসেম্বর, কিন্তু হলের নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই কর্মরত অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন মৃতু্বরণ করেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচিত উপাচার্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ঌ৮৮ সালের ১০ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় তাঁর নামে এই হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ মওলানা ভাসানী হল আসন ৭৬৮, স্থাপিত ১৯৯২। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল আসন ৭৮৪, স্থাপিত ২০০১ । ফজিলাতুন্নেসা হল ১ঌ৮৬ সালের অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি মহিলা হল নং-২ রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ও ১ঌ৮৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এই হলে ছাত্রীদের সিট বরাদ্দ করা হয়৷ ১ঌঌ০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৪৫ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফজিলাতুন্নেসা হল নামে নামকরণ করা হয়৷ ফজিলাতুন্নেসা বেগম প্রথম বাঙ্গালী নারী স্নাতকধারী ব্যক্তি ছিলেন । নওয়াব ফয়জুননেসা হল আসন ২০০+, স্থাপিত ১৯৭৮। ১ঌ৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি স্বতন্ত্র হল ও ১৪ এপিল সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই ছাত্রী হলটির নামকরণ করা হয় নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল৷ হলটি এক নম্বর হল বলেও পরিচিত। প্রীতিলতা হল আসন ৪০০+, স্থাপিত ১৯৯৪। স্থাপতি ফয়সাল মাহবুব এর নকশাকার। ১ঌঌ৭ সালের ৩১ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার এটি “প্রীতিলতা হল” নামে নামকরণ করা হয়৷ দুদিকে লেক বেষ্টিত এ হলে ৫০৪ জন ছাত্রীর আসন রয়েছে৷ জাহানারা ইমাম হল আসন ৪০০+, ১ঌঌ৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়৷ বেগম খালেদা জিয়া হল আসন ৪০০+, স্থাপিত ২০০৫ শহীদ রফিকজব্বার হল আসন- স্থাপিত ২০১০ শেখ হাসিনা হল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ৬ষ্ঠ হল হিসেবে শেখ হাসিনা হল ২০১৪ সালের ১২ জুন থেকে যাত্রা শুরু করে।[১০] বেগম সুফিয়া কামাল হল বাংলা সাহিত্যে কবি বেগম সুফিয়া কামালের অবদানকে স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ৭ম হল হিসেবে ২০১৫ বেগম সুফিয়া কামাল হল যাত্রা শুরু করে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব -এর নামে মেয়েদের ৮ম হল হিসেবে ২০১৭ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল যাত্রা শুরু করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ১৯ আগষ্ট ২০১৭ সাল হতে হলটি ছাএদের বসবাসের জন‍্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৭০০ ছাএ হলটিতে বসবাস করতে পারে। হলটির বর্তমান প্রাধ্যক্ষ‍ হচ্ছেন ড.অতীশ বরণ পাল। সবচেয়ে সুন্দর ও নব্যতম হল। রয়েছে সবচেয়ে বেশি আধুনিক সুযোগ সুবিধা। হলে পিছনে রয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরর লীলাভূমি ছায়াময় শান্তিনিকেতন।

রিপন বিশ্বাসরিপন বিশ্বাস

বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার অদূরে সাভারে ৬৯৭.৫৩ এলাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি আবস্থিত। বর্তমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের নাম ড.ফারজানা ইসলাম। ঢাকা শহরে মুঘল আমলের নাম অনুসারে নামকরন করা হয় । প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে ৪ টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে । বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন । তার আগে ১৯৭০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন ।এখন সৌন্দর্যের কথা কথা বলতে গেল এককথায় বলতে হবে সৌন্দর্যের রাজকন্যা আমাদের সবার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় । সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্য দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছে । বিভিন্ন ঋতুতে বিশ্ববিদ্যালেয় প্রকৃতি সেজে থাকে নিজে মতে, তারাও যেন বুঝতে পারে ধরায় ঋতুর পরিবর্তন এসেছে ।

এস এম মেহেদী হাসানএস এম মেহেদী হাসান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজধানী বলে পরিচিত বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

আমাদের এই ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতটাই ভরপুর যে ক্যাম্পাসে ঘুরলে মন ভাল হয়ে যায়। শীতের ক্যাম্পাস অতিথি পাখির কোলাহলে মুগ্ধ থাকে,ছাএছাএীরা ক্যাম্পাসে নির্ধিদায় চলাফেরা করতে পারে,রাতের ক্যাম্পাসটা সত্যিই অসাধারন,এবং মনোমুগ্ধকর। জাবিতে সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্কটা আপন ভাইয়ের মত, আসলে এটাই জাবিয়ান সম্পর্ক, এভাবেই পথ চলে জাবিয়ানরা,সত্যিই জাবি একটি পরিবার একটি ভালবাসার স্পন্দন ।

হাসান মাহমুদ

জাহাহাসান মাহমুদঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা হল থেকে পড়ালেখা করতে পারে। আমি মীর মশাররফ হোসেন হলের একজন আবাসিক ছাত্র,হলে থাকার বিভিন্ন রকম সুবিধা আছে যেমন সময় মত ক্লাসে যাওয়া, বন্ধুরা মিলে একসাথে থাকা, যেকোন সময়ে যেকোন প্রয়োজনে সবাই ক্যাম্পাসে দেখা করা। এমন অনেক বন্ধু দেখেছি যাদের পরিবার এর আর্থিক অবস্থা অনেকটা খারাপ, যার জন্য তাকে টিউশনি করে পড়ালেখা করতে হয়, এমন অবস্থায় তাকে বাসা/মেস ভাড়া নিয়ে থাকলে তার বাড়তি খরচ আরো বেড়ে যায়, হলে থাকার জন্য সে এই বাড়তি খরচ টা কমাতে পারছে। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সকলের মাঝে একটা ভালবাসার বন্ধন সৃষ্টি হয়,যা সকলের চলার পথে অনেক প্রেরণা দেয়।

আফসানা রহমান মৌআফসানা রহমান মৌ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দিয়ে আসছে। জাবির শিক্ষার্থীরা সবসময় নিরাপদ। এখানে কারো বিপদে কেউ পিছপা হয় না। সবাই সবার আপন। চিরসবুজ এই ক্যাম্পাসে আমরা সবাই একই বন্ধনে আবদ্ধ। জাবির ভাতৃত্ব সকলের কাছে যেমন প্রশংসনীয় তেমন অনেকের হিংসার ও কারন। জাবির মত একটা প্রতিষ্ঠানে পড়তে পেরে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছি। আমাদের এই প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক টুকরো অংশ হয়েছি এটাই সবচেয়ে আনন্দের।

মোঃ রাজু ইসলামমোঃ রাজু ইসলাম

প্রাণের ক্যাম্পাস জাবি, প্রাকৃতিক বৈচিত্র ও সৌন্দর্যের এক অপরুপ মিলনমেলা। তারুন্যের সবুজে আচ্ছাদিত এই ক্যাম্পাস সত্যি ভূবন ভুলানো হাতছানি দেয়। তার চাহনিতে আছে কাছে টানার আহবান। রাতের আধার ছেয়ে যায়, কি সুন্দর শান্তির নীড় তোমার। আবার, দিনের বেলায় তার মায়ার বাধন ছড়িয়ে দেয় হাজারো রাজুর মাঝে। দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন হলের ছাদে বা লেকের পারে যাই,শীতল হাওয়ার ছোয়া প্রাণ জুড়ে যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেন এক মিলন কেন্দ্র, বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে যাই বন্ধুর তরে। বটতলা হয় জমজমাট, যখন হয় সকাল, দুপুর আর রাত।
কেন্দ্রীয় মাঠ হয় ২য় মিরপুর স্টেডিয়াম ঐ বেলা, যখন শুরু হয় ডিপার্ট্মেন্টের খেলা।

“জানবিবি” খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, তুমি শুধু ‘আমার বা আমাদের দেশের নয়’, পুরো পৃথিবীর অফুরন্ত সম্পদ ।

পছন্দের আরো পোস্ট