সময় পেলে ছুটে যান বাচ্চাকাচ্চাদের ক্লাস নিতে

মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। লেখালেখি, সোশল ওয়ার্ক,গবেষনায় এবং সর্বোপরি শিক্ষা নিয়ে কাজ করে তরুনদের নিকট এক উদ্দ্যোমি চরিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে সপে দিতে মূহুর্ত বিলম্ব করেন না। এজন দক্ষ জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবেও বেশ খ্যাতি।

ওয়াহিদুজ্জামানের ঝুলিতে নতুন সফলতা যোগ হচ্ছে এ্যওয়ার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে। তিনি এবার পেতে যাচ্ছেন এডুকেশন ওয়াচ বিশেষ সম্মাননা।আগামী ১১ এপ্রিল জাতীয় জাদুঘরের বেগম সূফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এডুকেশন ওয়াচের ১০ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এ সম্মাননা গ্রহন করবেন।

জন্ম ও  বেড়ে উঠা:

  ১৯৮২ সালে ১০ নভেম্বর ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের ছয়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বেড়ে উঠেছেন সবুজে ঘেরা নিজ গ্রামেই। নিজ গ্রামে অবস্থিত ছয়বাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ভর্তি হন ধামরাইয়ের শত বছরের পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ডিঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেনী পাশ করে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজে। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি ও ২০০০ সালে এইসএসসি পাশ করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিভাগে।

কর্ম জীবন:

২০০৮ সালে সিমোরা গ্রুপের দি গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড সেন্টার লিমিটেড নামক পাট রপ্তানি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। গবেষণা কর্মে আনন্দ না পাওয়ায় তিনি অন্য কাজ খুঁজতে থাকেন। এরমধ্যে এমবিএ করার জন্য তিনি ভর্তি হন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। গবেষণার চাকরী ছেড়ে ২০১১ সালে যোগ দেন লংকা বাংলা ফাইনান্সের ক্রেডিট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট বিভাগে। সেখানে অল্পকিছুদিন কাজ করে একই সালে তিনি যোগ দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জনযংযোগ বিভাগে।

প্রায় পাঁচ বছর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ বিভাগে কাজ করার পর তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ( ইউল্যাব) এর কমিউনিকেশন বিভাগে উপ-ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে যোগদান করেন।

স্বপ্ন পূরন

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা আর চাকরী পাশাপাশি তিনি নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। স্বপ্ন পূরন হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এলাকার বন্ধুদের সাথে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তাদের সহযোগিতায় গড়ে তুলেন স্বপ্নের “আরবান স্কুল এন্ড কলেজ” ।

স্বপ্ন গড়ার কারিগর এই স্লোগানকে সামনে রেখে সমাজে মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে ৬০ জনের বেশী শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। রয়েছে প্রায় ১১০০ শিক্ষার্থী। স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে অত্র এলাকা ও আশেপাশে আস্তে আস্তে আরবান স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। হয়ে উঠেছে শত শত পরিবারের আস্থার জায়গা। তিনি আরবান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক।

মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানসমাজের জন্য কর্ম

মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ২০১৭ সালে আশুলিয়ায় অবস্থিত দূর্গাপুর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদে ইন্ডেপেন্ডেন্ট পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানেও রয়েছে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী। সেখানে শিক্ষকদের ট্রেইনিং সহ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। গরীব শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানেরা যাতে অল্প টাকা খরচ করে ভালোমানের শিক্ষা পায় সেইদিকে খেয়াল রেখে তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

কাজের স্বীকৃতি

ইউল্যাব এর ভিশন বাস্তবায়নে অসাধারণ পারফরমেন্স ও অসামান্য অবদানের জন্য কাজের স্বীকৃতি সরূপ তিনি ২০১৭ সালে “ভাইস চ্যান্সেলর এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড” লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি ইউল্যাব এ কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন । সুবিধা বঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের জন্যও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আর্ত মানবতার সেবায়

দেশে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি ছুটে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মিয়ানমার থেকে প্রথম যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে সেসময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফান্ড সরবরাহ করে সরকারের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে মানবসেবায় এগিয়ে আসেন। বিভিন্ন সামাজিক অঙ্গ সংগঠনের সাথে তিনি ছোটবেলা থেকেই সম্পৃক্ত।

ছাত্রাবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশন অব ধামরাই এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও বর্তমানে একই সংগঠনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যালামনাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । ভালবাসেন সর্বসাধারণের সাথে মিশতে। সময় পেলে ছুটে যান বাচ্চাকাচ্চাদের ক্লাস নিতে।

আনন্দের মাধ্যমে লেখাপড়ায় তিনি বিশ্বাস করেন। পছন্দ করেন ঘুরে বেড়াতে। সময় ও সুযোগ পেলে ভ্রমণ করতে চান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।

পছন্দের আরো পোস্ট