গলায় সনদপত্র-হাতে ঝাড়ু নিয়ে কোটা সংস্কার দাবি

সবার গলায় ঝুলছে সনদপত্র, হাতে রয়েছে ঝাড়ু। সবাই নেমেছে ক্যাম্পাস পরিষ্কার করতে। তবে এ ক্যাম্পাস পরিষ্কারের আড়ালে তারা সমাজের মানুষের মনের ময়লাগুলো একইভাবে পরিষ্কার করার প্রত্যয় নিয়ে নেমেছে। তারা কেউ কোটা ব্যবস্থার বিপক্ষে নয়, তবে সেটা পরিষ্কার করে সংস্কার চায়।

এমনই অভিনব পদ্ধতিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে পরিষ্কার পরিছন্ন কর্মসূচি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করে রবীন্দ্র ভবনের সামনে দিয়ে প্যারিস রোড হয়ে প্রধান ফটকে পরিষ্কার অভিযান চালায়। এরপর তারা সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ থেকে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। অন্য দাবিগুলো হচ্ছে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেয়া, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার নয়, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নয়, চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম মুবিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে রাবির কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত অমানবিক কোটা ব্যবস্থার সংস্কার অতিদ্রুত দেখতে চাই। কোটা আমাদের দেশের নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য প্রয়োজন। আমরা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চাই না আমরা চাই সংস্কার। দুই শতাংশ কোটাধারীর জন্য ৯৮ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থী কোটার অভিশাপে ভুগছে। আমরা আমাদের সমাজ থেকে কোটা ব্যবস্থা ৫৬ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশতে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। আজকে আমরা ঝাড়– নিয়ে পরিষ্কার পরিছন্ন কর্মসূচি পালন করছি, ঝাড়– দিয়ে যেমন ময়লা পরিষ্কার হয়। তেমনি আমরা চাই সমাজের মানুষের মনের ময়লাগুলো একইভাবে পরিষ্কার হয়।

মাসুদ মোন্নাফ আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। এখনও কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। কোটা আন্দোলনরত অজ্ঞাত ৭শ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্বাবিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবি ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

কোটা ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ২৯ মার্চ নাগরিক সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরিষ্কার পরিছন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট