“জানার জন্য বই পড়া উচিত” ফারহানা হোসেন

ফারহানা হোসেনের জন্ম ৩১ অক্টোবর। বাবার নাম মোশতাক আহমেদ। হাস্যমুখ সদালাপী বাবার সান্নিধ্য খুব বেশীদিন পাননি। শৈশব তাই খুব কষ্টেই কেটেছে।একধরনের মানসিক কষ্টের সাথে আর্থিক অভাবটাও খুব পীড়া দিতো।তখন থেকেই লেখালেখি করা ফারহানা হোসেনের অভ্যাস। মানুষের বহুরূপ কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। আজকের আলাপন সেই বিশিষ্ট কবি ফারহানা হোসেন কে নিয়ে।

তার সাথে কথোপকথন কে ‍উপস্থাপন করেছেন আমাদের ফিচার এডিটর স্বর্ণক শাহী

লেখাপড়া ও বর্তমান

৫ম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া হলেও পরবর্তীতে আর তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করা হয়ে ওঠেনি। স্বামী সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন এবং দু সন্তানের গর্বিতা জননী আমি। বন্ধুর মতোই তারা সবসময় আমাকে ঘিরে রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এম এস এস করার পর হোপ একাডেমীতে জনসংযোগ পরিচালক পদে যোগদান করেছি। একাডেমীটি যথাযথ পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা আমার স্বপ্নের একটি অংশ।

বহু পুরানো স্বভাব লেখা। সেটিই আবার পুনরুজ্জীবিত হলো গতবছর। বন্ধুদের উৎসাহে কবিতার বই’ উত্তরী হাওয়া’ প্রকাশিত হলো। ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।আমি সত্যিই অভিভূত। আগামী মেলায় আবার নতুন কাব্যগ্রন্থ আসছে।আশাকরি সবার মন জয় করতে পারবো।

ফারহানা হোসেনবই পড়া শুরু 

বই পড়া শুরু করেছিলাম কবে মনে করতে পারিনা।আমি বরাবরই একটু সেকেলে স্বভাবের। বইয়ের গন্ধ নিতে আমার ভালো লাগে।প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকি তাই।কাগুজে বই বড্ড টানে আমাকে। রবীঠাকুর আমার প্রিয় কবি। জীবনানন্দ পড়তে পড়তে লেখালেখি শুরু করেছিলাম অনেক আগে। শরৎচন্দ্র আজও পড়ি সময় পেলে।

সন্ধ্যা আমার সবচাইতে প্রিয় বিষন্ন সময়। রিক্সায় ঘুরতে খুব পছন্দ করি। গজল শোনা আমার নিত্যদিনের অভ্যাস। ভ্রমনপ্রিয় বরাবরই। অবসরে লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকি বেশী। সবকিছুকে একটা পরিপাটি রূপে দেখতে চাওয়া আমার বদভ্যাস। অসম্ভব জানি তবু আমি নিখুঁত করে পড়তে, ভাবতে চলতে পছন্দ করি।

শখ ছিলো

ছোটোবেলা থেকেই ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে পড়ার খুব শখ ছিলো। সর্বোচ্চ নম্বর থাকা সত্বেও ইংরেজী বিভাগে ৩০০ সীট পূরণ হবার জন্য পড়তে পারিনি। যদিও ডীন মহোদয় আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিষয়টি পরে পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। আমার আর যাওয়া হয়নি বা বলা যেতে পারে ইচ্ছা হয়নি।

ফারহানা হোসেনভালো লাগে

বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো আমার এখনও খুব ভালো লাগে। আমার বন্ধু ডঃ সাইফের বাসা ছিলো আমাদের সবচেয়ে বড়ো আড্ডার জায়গা। কতোশত স্মৃতি আছে ওদের মোহাম্মদপুরের বাসা ঘিরে বলে শেষ করা যাবেনা। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যাবেলা আমাদের মনে হলো খিচুড়ী খাবো। কয়েক বন্ধু মিলে রাত ৯ টায় হাজির হয়েছিলাম ওদের বাসায়। কী চমকানোই না সে চমকে ছিলো! আজও মনে পড়লে মনে হয় ফিরে যাই সেইসব দুষ্টুমিভরা সময়ে।

বর্তমানকে নিয়ে উপলদ্ধি

আজকাল মানুষ বড়ো যান্ত্রিক। সারাক্ষন ফোনে চোখ বা হাত আছেই। এভাবে খুব যে এগিয়ে যায় সমাজ আমি তা মনে করিনা। বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের ওপর থেকে দ্রুত আস্থা হারাচ্ছে। বহু ধরনের কর্মকান্ডে একই সময়ে জড়িয়ে যাচ্ছে।সুযোগের অপব্যবহারও বলা যেতে পারে। সময়ের সঠিক ব্যবহার জানা দরকার তাদের। কেননা তারাই দেশের আগামী আশা।

ফারহানা হোসেনপাঠকের জন্য পরামর্শ

আমার মনে হয় জানার জন্য বই পড়া উচিত। জানার চেষ্টা থেকেই আগামী প্রজন্ম বুঝতে পারবে জ্ঞানের একটা স্তর আছে যেখানে গিয়ে তারা উপলব্ধি করবে যে, কতো কম জানে মানুষ। আর কম জানে বলেই এতো অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় সময় নষ্ট করে।

পছন্দের আরো পোস্ট