নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নকল উৎসব পরিকল্পিত !

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক সাদমান তাহরীফ প্রত্যয় কে প্রত্যাহারের দাবিতে দু মাস ধরে চলমান আন্দোলনের জের ধরে গত ৩১ জানুয়ারি বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যুগান্তর সহ বেশকটি গণমাধ্যমে আলাদা আলাদাভাবে ‘কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডীনের কক্ষে নকলের উৎসব’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে । যেখানে কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম এর সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে । এডুকেশন প্রতিনিধি গতকাল ঐ বিভাগের ডীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমাকে তারা ভীষনভাবে ফাঁসিয়েছে। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। বেশ কদিন ধরেই প্রত্যয়ের মাস্টার্স লোকসঙ্গীত কোর্সের মিড এক্সাম গুলো নিতে বলি আমি প্রত্যয়কে। ১২তম ব্যাচ আসায় ক্লাসরুম সঙ্কটের কারনে আমি প্রত্যয়কে সাথে নিয়ে তার কোর্সের গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রীকে আমার অফিসেই পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দেই। পুরো বিষয়টার সুষ্ঠু সুরাহা করতে আগামীকাল(০১ জানুয়ারী) প্রত্যয় সহ বিভাগের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে জরুরী সিদ্ধান্তে যাবো।’

সেই প্রেক্ষিত গতকাল ১লা ফেব্রুয়ারি কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.মুশাররাত শবনম আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন ‘এই সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন । একটি মহল আমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে এই চেষ্টা করছে । তারা আমার সম্মানহানি করেছে। পরিকল্পিতভাবে কিছু মানুষ আমাকে ফসিয়াছে। আমি প্রত্যয়ের কোর্স যেহেতু, তাই তাকে গার্ডে দিয়ে আমার গবেষনার কাজে চলে যাই।এরই মধ্যে হঠাৎ বিভাগে ছেলেমেয়েরা উচ্চস্বরে কোলাহল ও গন্ডগোল মিছিল করলে জানতে পারি এ ঘটনা।সাথে সাথেই আমি তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে ছিঁড়ে ফেলি।এবং পুড়িয়ে ফেলানো হয়। কেননা এরকম ঘটনা সত্যিই লজ্জার।’

তিনি তার লিখিত বিবৃতিতে আরো বলেন, এই দোষ আমার নয় এটি সংগীত বিভাগের প্রভাষক (শিক্ষা ছুটির বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত) সাদমান তাহরীফের প্রত্যয় এর দায় ।

নকল এর বিষয়ে নিউজ হবার পর তিনি বলেন এটি কতিপয় শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বক ভাবে নিজেরা সৃষ্টি করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। তিনি আরো বলেন নকলের উৎসব নয় বেকায়দায় ফেলানোর উৎসব চলছে ! আপনারা সত্যটাকেই প্রকাশ করবেন প্লিজ।’

উল্লেখ্য সংগীত বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি সাদমান তাহরীফ প্রত্যয় কে নিয়ে চলা আন্দোলন সফল হোক।অব্যাহতির দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার (প্রত্যয়) ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে দু মাস ধরে আন্দোলনে আছেন । গতকাল স্নাতকোত্তর ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় গার্ড দেয়ার দায়িত্ব নিজ থেকে নেন সাদমান তাহরীফের প্রত্যয় । কিন্তু পরীক্ষার হলে তাকে পাওয়া যায় নি ।

প্রফেসর ড.মুশাররাত শবনম তার লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

পছন্দের আরো পোস্ট