মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিরাগ

উপাচার্য নেই। জন্মলগ্ন থেকে উপ-উপাচার্যের পদও শূন্য। একইসাথে কোষাধ্যক্ষের পদটিও খালি রয়েছে ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে। এই অবস্থায় অভিভাবকশূন্য হয়ে চরম হতাশা ও কচ্ছপের ন্যায় ধীর গতিতে চলছেকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের (কুবি) প্রায় ৭ হাজার সদস্যের দিনকাল। এতে ভগ্ন ও ক্ষুব্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আলী আশরাফের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে চলে গেছে দেড় মাসেরও বেশি সময়। এখন পর্যন্ত নতুন কোন উপাচার্য নিয়োগ পাননি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এদিকে ট্রেজারার পদ শূন্য গত এপ্রিল থেকে, উপ-উপাচার্য নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে।উপাচার্য না থাকায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা স্তগিত হয়ে আছে। আটকে আছে ১০ বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল। স্তগিত রয়েছে ১২ বিভাগের পরীক্ষা কমিটি গঠন, পরীক্ষক নিয়োগ আটকে আছে ১৯টি পরীক্ষার। ক্লাস-পরীক্ষা শেষ হলেও উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারছেন না আরও ৫-৬টি ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা; বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজও চলছে মন্থর গতিতে। এই নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ফলে কার্যতই অচল এবং কচ্ছপ গতিতে চলছে দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপাচার্য না থাকার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে নেয়া হচ্ছে না। এই সেশনের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর। পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ক্লাস শুরু করে দিয়েছে সেখানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ভর্তি পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দৃশ্যত ২-৩ মাসের সেশনজট নিয়ে নবীনদের ক্লাস শুরু করতে হবে। তবে বড় কথা হচ্ছে, উপাচার্য না থাকায় কবে পরীক্ষা হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। এ নিয়ে হতাশায় দিন পার করছেন ভর্তিচ্ছুদের অভিভাবক এবং ভর্তিচ্ছুরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য আসলে প্রথম কাজই হবে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া। তবে কবে উপাচার্য আসবেন এমনটা নিয়ে ধোঁয়াশা যেন আর কাটছে না।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাইয়্যেবুন মিমি বলেন, ‘অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য আসা উচিৎ। উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় সবদিক থেকে ঝিমিয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে এসময় অচল হয়ে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমরা চাই দূর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও প্রগতিশীল চিন্তা ধারায় বিশ্বাসী এক উপাচার্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি সাধনে সচেষ্ট হবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকহীন। অভিভাবক ছাড়া একটি পরিবার চলে কি করে? স্বাভাবিক ভাবে কোন কাজই করা যাচ্ছে না। নতুন কোন কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না, শিক্ষার্থীদের সেশনজট বাড়ছে। যতদ্রুত সম্ভব আমরা নতুন উপাচার্য চাই। নতুন উপাচার্য নিয়োগই সকল সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।’

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সকল প্রশাসনিক কাজ কার্যক্রম ধারাবাহিক ভাবে চলছে না, বেতন হচ্ছে না। তাই উপাচার্য নিয়োগ হওয়া জরুরী।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিরাগ। তাঁর মনে হয়তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কষ্ট আছে। যার কারণে উপাচার্য নিয়োগে এতো দেরি হচ্ছে।’

//স

পছন্দের আরো পোস্ট