কী চান জাকারবার্গ?

গুগল যখন গুগল প্লাস চালু করেছিল, তখন ফেসবুককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রাখতে কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ দিয়েছিলেন জাকারবার্গ। কয়েক বছর আগে যখন মহাসমারোহে প্রযুক্তিপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছিল স্ন্যাপচ্যাট, তখন ওই কোম্পানিই কিনে নিতে চেয়েছিলেন ফেসবুকের এই কর্তা। কিন্তু এখন নিজের প্রতিষ্ঠানকেই ‘হুমকি’ মনে করছেন মার্ক জাকারবার্গ। তাঁর মতে, কোটি কোটি মানুষের কল্যাণের জন্যই ফেসবুকের ‘ত্রুটি’ সারানো প্রয়োজন এবং ২০১৮ সালজুড়ে সেই কাজটিই করতে চান তিনি।

সংবাদ সংস্থা সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে শেয়ার হওয়া মিথ্যা খবরের বিষয়টি আলোড়ন তুলেছিল। এ ছাড়া ওই সময়ে মার্কিন মুলুকে রুশ প্রোপাগান্ডা, হিলারি ক্লিনটনকে ঘিরে মিথ্যা সংবাদ প্রচার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেসবুক ব্যবহার করে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের বিষয়টিও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে ফেসবুক ব্যবহার করে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। এখন এই বিষয়টিই জাকারবার্গ সামনে নিয়ে এসে ফেসবুকের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করছেন। এর আগে ফেসবুকের সাবেক কর্মীদেরও আক্ষেপ করতে দেখা গেছে যে কী বানিয়েছেন তাঁরা!

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আদালতেও নিয়ে গেছে ফেসবুককে। আগামী বুধবার ক্যাপিটল হিলের আদালতে এক শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে মৌলবাদী প্রোপাগান্ডা চালানোর অভিযোগে এই মামলা চলছে। শুধু ফেসবুক নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় টুইটার ও ইউটিউবও আছে।

mark-zuckerbergসিএনএন বলছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মানুষের মধ্যকার ইতিবাচক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে চাইছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকে দেখাতে চায় যে মানুষের কল্যাণের জন্য কিছু করতে চেষ্টা করছে তারা।

ফেসবুকে ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় কাটাবে, তত বেশি লাভ প্রতিষ্ঠানটির। সেই সময়ের অনুপাতেই বিজ্ঞাপনের হার ওঠা-নামা করে। ছবিটি ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ে তোলা। ছবি: এএফপি” ফেসবুকে ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় কাটাবে, তত বেশি লাভ প্রতিষ্ঠানটির। সেই সময়ের অনুপাতেই বিজ্ঞাপনের হার ওঠা-নামা করে। ছবিটি ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ে তোলা। ছবি: এএফপি নতুন বছরের শুরুতেই জাকারবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফেসবুক ব্যবহার করে হয়রানি ও ঘৃণার প্রসার রোধ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপও বন্ধ করতে চান। মোদ্দা কথা, ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে যেন ‘ভালো সময়’ কাটাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ শুধু ফেসবুকের নয়, সেই সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করতে চাইছেন। ব্লুমবার্গ বলছে, জাকারবার্গ চাইছেন মানুষ যেন অযথা ফেসবুকে স্ক্রল না করেন। এর পরিবর্তে মানুষে মানুষে অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আদতে এটিই ছিল শুরুর সময় ফেসবুকের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু নানা কারণে তা থেকে ধীরে ধীরে সরে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পছন্দের আরো পোস্ট