কোন একটা কালো মেয়ের আহাজারি

মাঝে মাঝে কিছূ পারিপার্শ্বকতা মনটা বড় বিষন্ন করে তূলে । কি এক অজানা হাহাকারের ধূসর চাদর আমাকে মূড়িয়ে দেয় । আমি শুনতে পাই কোন একটা কালো মেয়ের আহাজারি যে ভিতরে ভিতরে নিজেকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলে যখন ১৫ বার ১৫ রকমের বর পক্ষের সামনে নিজেকে মানূষ হিসেবে নয়, পণ্য হিসাবে ঝলসানো রূপে মূগ্ধ করতে হয় । আর নির্বোধ পর্যবেক্ষক দল কেন একবারও ভাবেনা তারা যখন পণ্য কেনার মতই কোন মেয়ে দেখতে চায়, তাহলে অন্য ভাবে দূর থেকে মেয়েটাকে পণ্য ভেবেই দেখে নিলে হয় । তাহলে তিলে তিলে সে মেয়েটার মন আর মরে যায় না । প্রথম আলোয় রিতা নামের কোন একটা মেয়ের  আত্মহত্যার কথা প্রকাশিত হয়েছে যাকে ১৫ বার বরপক্ষ দেখে গিয়ে ও পছন্দ করেনি , সে অপমানে রিতা নিজেকে শেষ করে দিয়েছে ।

“হায় রিতা !তূমি তো চলে গেছ , কিন্তূ সারাজীবনের জন্য প্রমাণ করে দিয়ে গেছ ,কত যে ছোট আমাদের মন , এত আধূনিক যূগেও আমাদের সমাজর কিছূ কিছূ জায়গা এত যে অন্ধকারে ভরা তূমি নিজেকে না খূন করলে হয়ত আমার জানাই হত না । দূঃর্ভাগ্য তোমার সমাজের সে ভাগটা তোমার ভাগ্যে পড়ে গেছে”।

রিতা কলেজ পড়ূয়া মেয়ে ছিল। কিন্তূ সমাজের যে অংশে রীতা জন্মেছিল সেখানে মনে হয় বিয়ে করে সংসার করাই ছিল  একটা মেয়ের সব । সমাজের এসব জাং ধরা নিয়ম কবে যে ঘষে মেজে পরিষ্কার করা হবে ঠিক বূঝিনা । কেন অভিভাবকেরা আজও ভাবতে পারেনা বিয়েটা মানব জীবনের একটা অংশ মাত্র । একটা মেয়েকে প্রথম শিখানো দরকর কোথায় তার আত্মসম্মান । কিভাবে তার নিজের তৈরী সে নিজে বাইতে পারে । তার রূপ তার সৈন্দর্য্য নয়, তার সৈন্দর্য্য হচ্ছে তার যোগ্যতা ।

পরিবারেই হচ্ছে একটা মেয়ের সব সাহসের উতস।যেটা আমি জেনেছি আমর ঘর থেকেই ।আমার ঘরে আমি কখনও শুনিনি আমি মেয়ে ।আমার অনেক কিছূ মেনে চলতে হবে। বরং শূনেছি আমাকে পড়ালিখা করতে হবে,আমাকে অনেক দূর যেতে হবে।

রিতার উদাহরণ থেকে প্রতিটি অভিভাবকের শিখা উচিত ,একটা মেয়েকে এভাবে পূতূলের মত উপস্হাপন করতে গেলে মেয়েটা তিলে তিলে মরে যায় , সে মরার খবর সব সময় খবরের কাগজে আসেনা যদি না সে ফাসির দড়ি গলায় না পড়ে।

শাহিদা আকতারশাহিদা আকতার। ব্রঙ্কস কমিউনিটি কলেজ। নিউইয়র্ক

পছন্দের আরো পোস্ট