কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী

বর্ণাঢ্য ও বিপুল উৎসবের আমেজে শুরু হওয়া রাউজানের কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজের ৫০ বছর পূর্তির দুইদিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী’র দ্বিতীয়দিন মূল পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন বর্তমান সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর সরকার প্রত্যক শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথমদিন বই দিয়ে পৃথিবীতে একটি নজির স্থাপন করেছে। দুনিয়ার আর কোথাও এভাবে বই দেয়ার নিয়ম নেই। আমরাও এখন অন্য দেশের কাছে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় হচ্ছি। মন্ত্রী বলেন শিক্ষাক্ষেত্রে দেশ অনেক এগিয়েছে।

মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল শনিবার দুপুরে কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বিতীয়দিন বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি বিশ্বজিত ভট্টাচার্য্য’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু এমপি, মাধ্যমিক ও শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ সালাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান চৌধুরী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, কদলপুর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নাহিদ কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজের দুইতলা ভবনকে চারতলায় রূপান্তর, আরো একটি নতুন ভবন, ৬ তলা বিশিষ্ট একটি আইসিটি ভবন, অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরীর সম্মানে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য আরো একটি চারতলা ভবন নির্মাণের আশ্বাস ছাড়াও আরো উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করার আশ্বাস দেন।

এছাড়া কদলপুর আইডিয়াল হাই স্কুলের জন্য ৬তলা ভবনের অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে চার গুণীজনকে সংবর্ধণা প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও বীমাবিদ এস. এম ইউসুফ।

অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিল্পীরা পরিবেশন করেন। এছাড়া রাতে র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রথমদিন ছিল প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র’র কূপন বিক্রি ও কিটস বিতরণের উদ্বোধন। এছাড়াও হালদা, কর্ণফুলী, মাতামহুরি, পদ্মা, যুমনা, শঙ্খসহ বিভিন্ন স্টলের উদ্বোধন করা হয়। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো কদলপুরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে থাকা দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অনেকে পুরনো বন্ধু-বান্ধবীদের দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন। বিশাল প্যান্ডেল, বর্ণিল ও চোখ ধাঁধানো আলোসজ্জার টানে পুরো কদলপুরের মানুষ যেন কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে ছুটে আসেন।

পছন্দের আরো পোস্ট