ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে শিক্ষক সমিতির পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদের টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজপন্থী ও শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্তর্ভূক্ত সাত শিক্ষক। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকরা বুধবার বিবৃতি প্রদান করেছেন।

শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, যুগ্ম-সম্পাদক ড. আতিউর রহমান, কার্যকরী সদস্য প্রফেসর ড. আর এম হাফিজুর রহমান, ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিক, মোঃ হান্নান মিয়া, মুহা: শামসুজ্জামান ও আসিফ আল মতিন এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকগণ অভিযোগ করেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ তার পদের অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং একজন সহকর্মীর বিষয়ে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিন্দনীয় কাজ।

এছাড়া, ড. তুহিন ওয়াদুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এর অনুপস্থিতির দোহাই দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি হয়েছে মর্মে যা বলেছেন, তা সঠিক নয়। কেননা, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ইউনিটের সঙ্গেই উপাচার্য মহোদয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক সভাপতি হিসেবে তার কার্যকাল গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে কার্যত: শেষ হয়েছে। বর্তমানে তিনি রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমিতির ২০১৮ সালের জন্য কার্যকরী সংসদের নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে। তাই এই সময়ে শিক্ষক সমিতির রুটিন দায়িত্বে থাকা সভাপতি হিসেবে এমন বক্তব্য তাদেরকে বিব্রত করেছে।

এদিকে, অভিযোগে শিক্ষক সমিতির সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও অভিযোগকারী সাতজন শিক্ষকই তাদের নিজেদের নামের পরে শিক্ষক সমিতির পদের ব্যবহার করে নিজেরাই সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ইউনিটের সঙ্গেই উপাচার্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা যা বলেছেন তা সঠিক নয়। কেননা, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক তিনি। কাজেই তিনি এই দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, তাদের এই বিবৃতি ন্যায়কন্ঠকের রোধ করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।

পছন্দের আরো পোস্ট