জাবি সিনেটে নির্বাচিত হলেন যারা

দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতিক্ষা আর অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন। গত ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো সিনেট নির্বাচন।

নির্বাচনে ২৫টি আসনের বিপরীতে আওয়ামীপন্থী গ্র্যাজুয়েটদের একাংশ ‘আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’ সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপন্থী গ্র্যাজুয়েটদের জাতীয়তাবাদী প্যানেল ৬টি আসন পেয়ে ২য় অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামীপন্থী অপর অংশ ‘গ্র্যাজুয়েটদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল মঞ্চ’ থেকে গ্র্যাজুয়েটদের কে নির্বাচিত হয়েছে মাত্র ১ জন।

৪৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কেউ নির্বাচিত হননি।ভোট গণনা শেষে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর পাঁচটায় রিটার্নিং অফিসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক এই সাময়িক ফল ঘোষণা করেন।

ঘোষণা শেষে তিনি বলেন, ‘সাময়িক ফল ঘোষণার তিন কার্যদিবসের মধ্যে কোন প্রার্থী লিখিত অভিযোগ না করলে, এই ফলই চূড়ান্ত ফল বলে গণ্য হবে।’

নির্বাচনে ৩টি প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা হলেন

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’ প্যানেলের কেএইচ মাহিদ উদ্দিন, মো. কায়কোবাদ হোসাইন, শরিফ এনামুল কবীর, ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, মো. সোহেল পারভেজ, আশীষ কুমার মজুমদার , শামীমা সুলতানা , কৃষ্ণা গায়েন , পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা , মহব্বত হোসেন খান, শেখ মনোয়ার হোসেন , মো. মোতাহার হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মেহেদী জামিল, মো. এবায়দুল্লাহ তালুকদার, ইন্দু প্রভা দাস, মো. মাসুদুর রহমান এবং মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা প্রমুখ । বিএনপিপন্থী ‘জাতীয়তাবাদী প্যানেল’ থেকে ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, শিহাব উদ্দিন খান, শামীমা সুলতানা, মো. শামসুল আলম, সাবিনা ইয়াসমিন ও ড. মো. নজরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামীপন্থীদের অপর প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল গ্রাজুয়েট মঞ্চ’ এর একমাত্র আসন প্রাপ্ত মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোটে’র প্রধান অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব সংকল্প করেছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করবো। প্রথমে আমরা ক্যাম্পাসে বাণিজ্যিক পরিবেশ দূরীকরণে কাজ করবো। জাকসু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করবো। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আমরা তৎপর থাকবো।’ জাতীয়তাবাদী প্যানেলের পক্ষে অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে আমরা একত্রে কাজ করবো। জাকসু নির্বাচনসহ সব প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য,সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে জাবির সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩ বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৯ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলে। ৪৩৭৩ জনের মধ্যে ৩৬৩৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাাজুয়েট তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে (৮৩%)। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রথম ২৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্ষদ সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

পছন্দের আরো পোস্ট