অহিদুজ্জামান লিটনের আগামীর ‘পথনকশা’

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) নির্বাচনে মহাসচিব প্রার্থী মোঃ অহিদুজ্জামান লিটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে স্নাতক (সন্মান)সহ এম. এ, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও মাস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এন্ড বিজনেস সম্পন্ন করেন । বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে গ্রন্থাগার ও তথ্য পেশায় নিয়োজিত ছিলেন । বর্তমানে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গ্রন্থাগারিক ও আরকাইভ ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত । ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে হেড অব চ্যান্সারী ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্টদূত হিসেবে ও SAARC Coastal Zone Management Centre (SCZMC) – এ ২০১১-১২ সালের জন্য গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি চাকুরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও পত্রিকায় লেখালেখি করেন । শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি এডুকেশন ওয়াচ এওয়ার্ড ২০১৬ লাভ করেন । তিনি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) – এর যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন । এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের এলামনাই এসোসিয়েশন-এর নবগঠিত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন ।

আগামীর পথনকশা 

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) নির্বাচনে সন্মানিত সদস্যগণ আমাকে মহাসচিব নির্বাচিত করলে আমি আমার পথনকশা অনুযায়ি গ্রন্থাগার পেশার মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে প্রায় চল্লিশ হাজার পেশাজীবী ভাই বোনদের ভাগ্যের উন্নয়ন, সমস্যা সমাধান করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব ।

১. আমার পথনকশার প্রথম ধাপ হলো গ্রন্থাগারিকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে আগামী তিন মাস সারা দেশে সাংগঠনিক সফর করব । ল্যাবের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য সদস্য সংগ্রহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব । দেখা গেছে, আমরা যে কারনই হোক নির্বাচিত হবার পর সম্মানিত ল্যাব সদস্য তথা গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের কথা শুনতে খুব বেশী তাঁদের কাছে যাইনি । যে কারনে ল্যাব সম্পর্কে উৎসাহের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে । এ অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন । কারন আমরা একত্রিত না হলে কেহ আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দেবে না ।

২. পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের একটি সময়সীমা নির্ধারন করব । যেহেতু সকল সমস্যা সমাধান আমাদের হাতে নেই, রয়েছে সরকারের নীতি নির্ধারকদের হাতে । সে ক্ষেত্রে মহাসচিব হিসেবে আমার ব্যক্তিগত কৈফিয়ত সদস্যদের সময় সময় অবহিত করব । সেটি সামাজিক যোগাযোগ/ইমেইল/পত্র প্রেরণের মাধ্যমে জানিয়ে দেব ।

৩. আমাদের সকল পেশাজীবীদের প্রাণের দাবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের মর্যাদা আদায়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে পেশাজীবীদের চাপ সৃষ্টি, প্রয়োজনে আইনী সহায়তার মাধ্যমে তা আদায়ের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো । প্রতি সপ্তাহে সেক্টর অনুযায়ি প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্ব-শরীরে একবার হলেও তাগাদা দেব ।

৪. গ্রন্থাগার ও তথ্যসেবা’ বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও গ্রন্থাগারিকতা পেশার ক্যাডার সার্ভিস প্রবর্তনের লক্ষে পেশাজীবী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অচিরেই চাপ সৃষ্টি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করব ।

৫. ইতোমধ্যে সৃষ্টি করা পদসমূহের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য পেশাজীবী চাপ অব্যাহত রাখব ।

৬. সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারিক পদ সৃষ্টি সম্ভব সেখানে পদ সৃষ্টির জন্য লবি করব ।

৭. দাবি আদায়ের জন্য বর্তমান যুগে মিডিয়ার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই আমাদের গ্রন্থাগার পেশার যৌক্তিক দাবিসমূহ আদায় করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাবো । গ্রন্থাগার ভিত্তিক বিভিন্ন দিকসমূহে একটি ক্রোড়পত্র/সাময়িকি বের করা হবে ।

৮. উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের গ্রন্থাগার পেশাজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বিভাগীয় ল্যাবের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানের ইনস্টিটউটগুলোর সম্পর্কে সেতু বন্ধন তৈরীর লক্ষে বিভাগীয় শহরে বছরে অন্তত: ২ (দুটি) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার ও বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব ।

৯. গবেষণা কার্যাক্রমের সাথে গ্রন্থাগার পেশার সম্পর্ক পানি ও মাছের মতো । পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচেনা তেমনি গ্রন্থাগার ছাড়া গবেষনা হয়না । এ ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারিক পেশার সঙ্গে গবেষণার সম্পর্ক স্থাপন করে গ্রন্থাগার কর্মীরা যেমন গবেষণা করতে পারে তা আদায়ের চেষ্টা করব ।

১০. প্রতি বছরই সদস্যদের উপস্থিতিতে এজিএম ও আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়া এবং বনভোজনের উদ্যোগ নেয়া হবে ।

১১. পর্যায়ক্রমে ও গুরুত্ব অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে যা আগামী ৩ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে ।

আমি ও আমার পূর্ণ প্যানেল ( মিতুল-লিটন-মহিউদ্দিন পরিষদ) পথনকশা বাস্তবায়নে সুযোগ পেলে অবশ্যই প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ বিনির্মাণ, গ্রন্থাগার পেশার উন্নয়ন, পেশাজীবীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো । কারন আমাদের রয়েছে অঙ্গীকারে সততা, বাস্তবায়নে সদিচ্ছা ও কাজের সক্ষমতা ।

পছন্দের আরো পোস্ট