“অটুট থাকুক পাবলিক-প্রাইভেট সম্প্রীতি “

দেশের অতিমেধাবীদের যায়গা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে।এতে যেমন তাদের খুশীর অন্ত: নেই তেমনি প্রতিবেশীদের ও গর্বের শেষ নেই। পাবলিকে চান্স না পাওয়াটা ছেলেটা প্রতিবেশীদের চোখে যে বাতিলের খাতায় পড়ে যায় এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।পাবলিকের চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীর অতীতে ঘটে যাওয়া সকল কিছু ভুলে সমাজ,প্রতিবেশী,আত্নীয়স্বজন তাকে সাধরে গ্রহন করে আর চান্স না পাওয়া ছেলেটার দোষ খুজতে তারাই আবার মরিয়া হয়ে উঠে।

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা অর্জনের নিমিত্তে চান্স না পাওয়া ছেলেটার শেষ ঠিকানা হয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে।আর ঠিক তখন থেকেই সূচনা হয় পাবলিক প্রাইভেট দ্বন্ধ।

সবাই নয় তবে অনেক পাবলিকিয়ানদের চোখে প্রাইভেটের শিক্ষার্থী মানেই ঘরের চার দেয়ালে বন্দি ধনীর আদরের সন্তান,পড়াশোনার চেয়ে বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে দিনভর কোনো রেস্টুরেন্টের আড্ডা,টাকায় কেনা সার্টিফিকেট, শিট ও ফটোকপি বিদ্যাকে পুজি করে উচ্চ শিক্ষার গন্ডি নাম মুল্যে পার করা।

আর অন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শ্রেণীর ওভার স্মার্ট শিক্ষার্থীদের চোখে পাবলিকের শিক্ষার্থী বলতেই আনস্মার্ট, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা একদল শিক্ষার্থী,তাদের আড্ডাটা পাবলিকদের উপহাস করতেই কেটে যায়।

বাংলাদেশের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা গনরুমে শুয়ে রাতটা কাটিয়ে দেয়, আর রাত যত গভীর হয় ততই চোখের কোনে জমে থাকা পানিতে বালিশ ভিজে।তারপর ক্লান্ত দেহটি একটুখানির জন্য বিশ্রাম নেয়।

সকাল হয়, আবার প্রান চাঞ্চল্য ফিরে আসে টিএসসি তে। টিএসসি ফিরে পায় তার আপন রুপ। সকাল টা মামার টঙ এর দোকান থেকে ১-২ টা রুটি আর সারাদিন ক্লাস শেষে ক্যান্টিন এর ২০ টাকা প্লেট এর সাদা ভাত খেয়েই তারা তৃপ্ত।এতেই তারা খুশি কারন তারা যে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এ পড়ে।

কারন তারা জানে এই ক্যান্টিনে কত গুনী মানুষ এর পায়ের ছাপ পড়েছিল,এই ক্যান্টিনে বসে কত কবিতা, কত গান রচনা হয়েছিল।এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্যানভাস এর সাথে মিশে আছে আমাদের স্বাধীনতা , আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের আবেগ, আমাদের অনুভুতি।

পাবলিক ভার্সিটির এর মধ্যে যেমন মানের প্রার্থক্য থাকে তেমনি আছে প্রাইভেট ভার্সিটি গুলোতে। দেশের সবগুলি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমমান বজায় রাখতে পারেনি এটা সত্যি। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলি যথেষ্ট ভাল করছে,সেখানকার শিক্ষার্থীরা দেশ বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করছে,পাবলিকের ভার্সিটির নামি অধ্যাপকগন প্রাইভেটে ক্লাস নেন,তাছাড়া প্রাইভেট ভার্সিটির সিলেবাস সব সময়ই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে করা হয়।

একটি পরিবারের সবাই পাবলিকে পড়ে না কেউ হয়তো প্রাইভেটে পড়েন, আর এই নিয়ে যদি দ্বন্ধ হয় তাহলে এটা দু:খজনক ছাড়া বৈ কিছু নয়।অতীতের ভ্যাট আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পাবলিকের শিক্ষার্থীরা যেমন করে প্রাইভেটের সাথে এক হয়ে হয়ে রাজপথে আন্দোলন সফল করতে নেমেছিল ঠিক তেমনি সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর হল চাই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে প্রাইভেটিয়ানরা রাজপথে নেমেছিল।

আর এমন সম্পর্ক যদি অটুট থাকে পাবলিক – প্রাইভেটে, তাহলে কোনো অপশক্তিই এই শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।পাবলিক- প্রাইভেট দ্বন্ধের অবসান হোক এটাই প্রত্যাশা।

হাসান সাকিব।পুরকৌশল বিভাগ।স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

পছন্দের আরো পোস্ট