শর্ত উপেক্ষা করে ভর্তি করাতে মরিয়া ইবির শিক্ষক-কর্মকর্তারা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভর্তি নির্দেশিকায় প্রদত্ত শর্ত উপেক্ষা করে নিজ সন্তানদের ভর্তি করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আগামী রবিবার অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি কমিটির সভায় শর্ত কমাতে বিভিন্নভাবে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে তারা বলে জানা গেছে। ইতিপূর্বে শর্ত কমিয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিভাগের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ স্নাতক (সম্মান) ১বর্ষের মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্তদের ভর্তি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষাৎকার শেষে বিভিন্ন বিভাগে চলছে ভর্তি কার্যক্রম। এদিকে ভর্তি শর্ত পূর্ণ করতে না পারা সন্তানদের ভর্তি করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারী। এবছর ভর্তি নির্দেশিকায় পোষ্য কোটায় ভর্তি হতে হলে এসসিকিউ পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩২ নাম্বার পাওয়ার শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি। বেশ কিছু শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা সে শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে নির্দেশিকা মোতাবেক সন্তানদের ভর্তি করাতে পারছে না তারা। এদিকে আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভা। এতে পরীক্ষার শর্ত কমিয়ে পোষ্য কোটায় নিজ সন্তানদের ভর্তি করাতে বিভিন্নভাবে লবিং শুরু করেছে প্রভাবশালী কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ইতিপূর্বে প্রভাবশালী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জোর লবিংয়ে পোষ্য কোটায় শর্ত কমিয়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। শর্ত কমিয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রতি বছর শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীর কিছু সন্তান শর্ত উপেক্ষা করে পোষ্য কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির পর তারা বার বার ফেল করে বিভাগের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এতে পাঁচ বছরের কোর্স ৮ বছরেও শেষ করতে পারে না। তাদের বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেটে অনুমতি নিতে হয়। এছড়াও এসব শিক্ষার্থীদের অনেকে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন,‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ভর্তি শর্ত শিথিল করার পক্ষে নই। যাতে শর্ত শিথিল না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

//স

পছন্দের আরো পোস্ট