চুয়েটে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস পালিত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম মহোদয় বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত অংশীদার আমাদের চুয়েট পরিবার। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দুইজন ছাত্র শহীদ হয়েছেন। তারা হলেন- শহীদ মোহাম্মদ তারেক ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের হাতে কোন অস্ত্র ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তখনকার ছাত্রজনতাকে প্রেরণা যুগিয়েছে। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও তাদের সেই প্রেরণা জোরালো করতে হবে। তবেই আমাদের দেশ প্রকৃতপক্ষে এগিয়ে যাবে।

তিনি আজ (১৬ ডিসেম্বর) শনিবার চুয়েট শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত মহান বিজয় দিবস-২০১৭ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপক ড. রনজিৎ কুমার সূত্রধর, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. কৌশিক দেব, পুরকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, যন্ত্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বনিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক প্রমুখ। ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রানিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন ও মানবিকের প্রভাষক জনাবা নাহিদা সুলতানা চৈতীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধানগণের পক্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহম্মদ, প্রভোস্টগণের পক্ষে শহীদ মোহাম্মদ তারেক হুদা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশীদ, শিক্ষক সমিতির পক্ষে সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফীন, কর্মকর্তা সমিতির পক্ষে প্রকৌশলী অচিন্ত কুমার চক্রবর্তী ও কর্মচারী সমিতির পক্ষে জনাব মোঃ জামাল উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মনীষী রায়, হাবিবুর রহমান, শাখাওয়াত হোসেন সম্রাট ও রাফসান জানি প্রমুখ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকালে ৪৭তম বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীনগণ ও রেজিস্ট্রার মহোদয়কে সাথে নিয়ে চুয়েট উপাচার্য শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে চুয়েটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়েটের শহীদ দুই শিক্ষার্থীদের কবর জেয়ারত করা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা মধ্যে বৈশাখী মঞ্চে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ।

পছন্দের আরো পোস্ট