ইবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আগামীকাল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০১৮ আগামী ১৩ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার অনুষদ ভবনের ৪২৭ নং কক্ষে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে। নির্বাচনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জিয়া পরিষদ ও গ্রীণ ফোরাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরাম পৃথক পৃথক প্যানেলে প্রতিদ্বন্দীতা করবে। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উভয় প্যানেলের প্রচার প্রচারণা তুঙ্গে। এছাড়া আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়ক কর্মচারী সমিতির নির্বাচন, আগামীকাল কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন এবং বুধবার শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।

জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০১৮ উপলক্ষে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে ৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমাদানের শেষ তারিখ ছিল। গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল। এতে দুইটি প্যানেল মনোনয়ন জমা দিয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে ১০ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় দুই প্যানেলকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে, নির্বাচনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ ও গ্রীণ ফোরামের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পদে দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সহ-সভাপতি পদে দাওয়া এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মোহাম্মদ রেজওয়ান এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আইনুল হক আকন্দ, কোষাধ্যক্ষ পদে একই বিভাগের ড. আসাদ-উদ-দৌলা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সদস্য পদে ১০ জন সহ মোট ১৫ টি পদে মনোনয়ন জমা পড়েছে।

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আর.কে.এম সালেহ, সাধারণ সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সহ-সভাপতি পদে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বাকি বিল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সদস্য পদে ১০জন সহ মোট ১৫টি পদে মনোনয়ন জমা পড়েছে।

এ বছর নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫৩ জন শিক্ষক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে জানা গেছে।ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে দুই প্যানেলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচনে উভয় দলের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষকদের মাঝে স্ব-স্ব প্যানেলের পক্ষে প্রচার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষকরা। এছাড়াও দুই প্যানেলের শিক্ষকরা দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষকের কাছে গিয়ে ভোট প্রত্যাশা করছেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লোক-প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু।

নির্বাচনের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন জানান, ‘আমাদের কাছে উভয় দলের প্যানেলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। যাচাই বাছাই করে আমরা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছি। নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। আশা করছি, সঠিক সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।’

//স

পছন্দের আরো পোস্ট