বেরোবিতে নীলদল থেকে শিক্ষকদের গণপদত্যাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন নীলদল থেকে অন্তত ১৫ জন শিক্ষক পদত্যাগের গুঞ্জণ উঠেছে। আরো অনেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনে যে সকল শিক্ষক দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাঁরা হলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এমদাদুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বকুল কুমার চক্রবর্তী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক গোলাম রব্বানী সরকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাজিয়া সুলতানা, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক নুরুজ্জামান খান, অবিনাশ চন্দ্র সরকার, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মহুয়া শবনম, মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শেখ মাজেদুল হক, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রশীদুল ইসলাম, প্রভাষক বিপুল হোসেন, সুকান্ত দাস এবং একই বিভাগের অপর প্রভাষক অতুল চন্দ্র সিংহ কিছুদিন আগে দল থেকে পদত্যাগ করে শিক্ষা ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে গেছেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালে প্রগতিশীল ও আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষকদের নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে প্রথম একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তখন ৮৫ থেকে ৯০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় সবাই সেই দলের সদস্য হন। তবে হাতে গোনা কয়েক জন সেই দলের বাইরে ছিলেন।

২০১২ সালে শিক্ষক সমিতির প্রথম নির্বাচনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে প্যানেল দেওয়া হলে বাইরে থাকা শিক্ষকবৃন্দ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আংশিক প্যানেল দেয়। শিক্ষক সমিতির প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নিরঙ্কুশ জয় পায়। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর আমলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সমন্বয়ে আওয়ামী সমর্থিত অপর সংগঠন নীলদল প্রতিষ্ঠা করেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বাইরে থাকা শিক্ষকবৃন্দ।

এর পর অধ্যাপক নূর-উন-নবীর আমলে নিয়োগ পাওয়া ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষককে নীল দলে যোগ দিতে এক রকম বাধ্য করা হয়। নীল দল থেকে সদ্য পদত্যাগকারী একজন শিক্ষক জানান, নিয়োগপত্র পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগেই নীল দলের ফরম পূরণ করতে হয়েছিল। সেসময় বেশ বিব্রত হয়েছিলাম কিন্তু কিছু বলা সম্ভব হয় নি। গত তিন বছরে মনে হয়েছে আদর্শের কথা বলা হলেও নীলদলের কার্যক্রম আওয়ামী লীগের আদর্শের সাথে যায় না, তাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।

নীল দল থেকে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করে দলটির সভাপতি ড. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এ পর্যন্ত তিনজনের পদত্যাগপত্র পেয়েছি। তবে ১৫ জনের যে খবর শোনা যাচ্ছে সেটি একেবারেই ভিত্তিহীন বলে আমি মনে করি। শিক্ষকেরা কেন পদত্যাগ করছেন এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নীলদল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। কেউ যদি চলে যান তাহলে সেটি তার ব্যাপার।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ ফোন রিসিভ করেননি।

পছন্দের আরো পোস্ট