ইবির ‘সি’ ইউনিটে প্রশ্নপত্রের পুণরাবৃত্তি নিয়ে তদন্ত কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮০টি প্রশ্নের পুণরাবৃত্তি নিয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। একই সাথে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা প্রথম এবং দ্বিতীয় শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষায় প্রথম শিফটের ৮০টি প্রশ্নের পুণরাবৃত্তি ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা বাতিল এবং তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা স্থগিত করে।

এ ৮০ প্রশ্নপত্রের পুণরাবৃত্তির কারণ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. শামসুল আলম, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস.এম আব্দুল লতিফকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটিকে যথাশীঘ্র সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করতে বলা হয়েছে। এদিকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩ ডিসেম্বর রবিবার ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রথম শিফটে বাণিজ্য বিভাগ থেকে আবেদনকৃত ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় শিফটে অবাণিজ্য বিভাগ থেকে আবেদনকৃত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহন করার কথা। কিন্তু দ্বিতীয় শিফটে অবাণিজ্য বিভাগ থেকে আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহন করা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পুণরায় তাদের পরীক্ষা গ্রহন করে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. আহসান-উল-আম্বিয়াকে আহবায়ক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটির অন্যন্য সদস্যরা হলেন, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. দীপক কুমার পাল। কমিটিকে যথাশীঘ্র সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস.এম আব্দুল লতিফ বলেন,‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে যে গড়মিল লক্ষ করা গেছে তার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।’

পছন্দের আরো পোস্ট