স্বপ্নচুরি

তুমি কোথায় যেতে চাও তা যদি তুমি না জান তবে কোন পথই তোমাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে না। অর্থাৎ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া নাকি কোন কাজই সফল হয় না।সোজা কথা হল স্বপ্ন দেখতে হবে।স্বপ্ন নামক এই শব্দটি খুব ছোটবেলা থেকে আমি সমীহ করে আসছি কারন অন্যদের মত আমিও বিশ্বাস করি Nothing happens unless first there is a dream. সভ্যতার এই স্বর্ন যুগে এসেও আমাদের স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রগুলো কেমন যেন সরু হয়ে আছে।

আমাদের শিশুদের স্বপ্নগুলো কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারের মত ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। সদ্য স্কুল ভর্তি ছাত্র ছাত্রীদের কাছে প্রশ্ন করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া অন্যকোন পছন্দের ক্ষেত্র খুজে পাওয়া যাবে না। কেউ সাহস করে বলবে না, “আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। কারন এত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস আমাদের সমাজ আমাদের শিশুদেরকে দেয় না। তাহলে কি আমরাই খুব অল্প বয়সে তাদেরকে শেকলে আবদ্ধ করে ফেলি? দুই চারটা ক্ষেত্রকে সফলতার চরম পর্যায় চিহ্নিত করে।

আমার এখনো মনে পড়ে আমার সেই ধানমন্ডির ছাত্রের কথা, যে ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র হয়েও my aim in life রচনায় দিব্বি ডাক্তার হতে চাই লিখে আসছে।এই ছেলে এ+ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে আদৌ তার গন্তব্য ধরে চলছে কিনা কে জানে। ছোট শিশুদের কথা বলি, দুই চারটা ক্ষেত্রকে তাদের স্বপ্নের জায়গা বানিয়ে যাত্রা শুরু করে, দুই চারজন তাদের স্বপ্নের জায়গায় যেতে পারলেও আর বাকিরা?? তাহলে কি তারা ব্যর্থ? না আমি তাদেরকে ব্যর্থ বলননা, আমি বলবো যে তারা স্বপ্ন দেখতে শেখেনি।

আমরা সবাই তাদের ব্যর্থ বলি অথচ আমরাই তাদের স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রগুলো সীমিত করে রাখি। তারপর আসি ব্যর্থতায়। জীবন থেকে নেয়া দুই চারটা কথা বলি ব্যর্থতা নিয়ে, ব্যর্থার দায়বার কেউ নিতে চাই না যেখানে সফলতার সাথে অর্থাৎ সফল ব্যক্তিদের সাথে সবাই নিজেদের লিংক করতে চাই। আমি ওনাকে চিনি,ওনি আমার মায়ের এমন হোন ঠিক এভাবেই।

আমি অনেক ফ্যামিলি দেখেছি যেখানে মা ফেল করা ছেলেকে বলছে, ও আমার কথা শোনে নাই, ওকে আমি অনেক পড়তে বলেছি,যদিও ছেলে ছিল মায়ের খুব ভক্ত।আর বাবা ওনি তো ছেলের বাবাই হতে চাই না, ছেলের মাকে জোর গলায় বলে তোমার ছেলে ফেল করেছে। কোথায় কবে পড়েছি জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে জীবনকে অস্বীকার করা।আবার এটাও সত্যি’ হাজারো সমস্যা পাড়ি দিয়ে সুন্দর একটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন কি আমদের সমাজ আমাদের শিশুকে দেখতে দিবে?

আমরা আব্রাহাম লিংকনের কথা জানি যিনি ৭-৮ বার ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হয়েও ৫৭ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হয়ে ছিলেন কারন তাদের সমাজে ঐ provision টা ছিল এবং তিনি নিজেও আসল স্বপ্নটা দেখে ছিলেন।তাই বলি এই ধরনের স্বপ্ন মাঝে মাঝে চুরি করতে শেখা উচিত। অদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের সমাজ কি পারে না আমাদের শিশুদেরকে তাদের আপন ভূবনে ছেড়ে দিতে, যেখানে তারা নিজের ইচ্ছে মত নিজের ভূবন সাজিয়ে নিজের স্বপ্নগুলোকে লালন করে বড় হবে। যেখানে তাদের পায়ে কোন শিকল থাকবে না।

মুক্তচিন্তা নামক শব্দটি আমাদের শিশুদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে কারন অতি শক্তিশালী জন্তুটিকেও যদি পায়ে শেকল পড়িয়ে মাঠে ছেড়ে দেয়া হয় সে তার নিদিষ্ট আঙিনার বাইরে যেতে পারবে না। তাই বলি বিজয়ের নেশায় আমাদের শিশুদের কে মুক্ত পথের পথিক করে বিশালতার মাঝে ছেড়ে দিতে হবে অর্থাৎ তাদেরকে আগে স্বপ্ন দেখতে দিতে হবে তারপর তারা তাদের স্বপ্নপূরনের পথ নিজেই খুঁজে নিবে।।।।।।।।

পছন্দের আরো পোস্ট