উপাচার্যশূন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পঞ্চম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আশরাফের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ২ তারিখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ এই পদটি শূন্য হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় উপাচার্যশূন্য হয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও উপাচার্যের শূন্যতায় উক্ত দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পালন করার কথা থাকলেও এই পদ দুটিও যথাক্রমে খালি রয়েছে। ফলে কার্যত অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বেশকিছু যায়গায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিধ্যালয় আইনে একজন সহ-উপাচার্যের উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠার ১২ বছরে এই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এছাড়াও গত ২৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কুন্ডু গোপীদাসের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষের ৭ মাস পরও সেখানে নতুন কেউ নিয়োগ পায়নি। তাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলী আশরাফের মেয়াদ শেষে অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দিতে না পারায় উপাচার্য পদটি শূন্য রয়েছে গত এক সপ্তাহ ধরে।

এদিকে নতুন উপাচার্য হিসেবে কে আসছেন?-এর উত্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের নাম গুঞ্জনে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহল থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদে আসতে পারেন এমন বেশ কয়েকজন অধ্যাপক আলোচনায় আছেন। এরা হলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সভাপতি এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও চবির শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর এম রুহুল আমিন; ঢাবি শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল প্রমুখ।

গুঞ্জন রয়েছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট (প্রধানমন্ত্রী দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়) দপ্তরে গিয়েছে। তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা কে হচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী কা-ারী।

উল্লেখিত অধ্যাপকদের মাঝে আলোচনায় দুই জনের নাম আসছে সর্বাগ্রে। তারা হলেন অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও প্রফেসর ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন।

অধ্যাপক ড. এমরান কবিরের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ‘৫০ লাখে ঢাকা ক্লাবের সদস্যপদ কিনলেন অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী’ শিরোনামে খবরে আসেন তিনি (দ্রষ্টব্য: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম, ৫ এপ্রিল; ২০১৪)। এর আগে পিএসসি সদস্য থাকাকালে ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় আর্থিক লেনদেনের পরও চাকরি না হওয়ায় ছাত্রলীগের একটি অংশ তার বাসভবনে হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় (দ্রষ্টব্য: দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ অক্টোবর ২০১২)।

এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য না থাকায় বন্ধ হয়ে আছে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এই নিয়ে চিন্তায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এছাড়াও নতুন উপাচার্য কে হবেন, কেমন হবেন?-তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের দাবি যিনিই উপাচার্য হিসেবে আসবেন তাকে হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, শিক্ষা ও গবেষণাবান্ধব এবং প্রশাসনিকভাবে যোগ্য ও দক্ষ।

কবে নাগাদ উপাচার্য নিয়োগ হবে?-এর উত্তর নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কেউ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, ‘অল্প সময়ের মাঝেই উপাচার্য নিয়োগ হতে পারে।’

পছন্দের আরো পোস্ট