জাবিতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন

“যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোল; নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠন কর” এই স্লোগানে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজনে জাবিতে “যৌন নিপীড়ণ ও ধর্ষণ বিরোধী” শীর্ষক সমাবেশের আয়োজন করে তারা। সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন,‘ধর্ষণের শিকার নারীকে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করে তার প্রতি সংবেদনশীল হতে ও তার পাশে দাঁড়াতে হবে। যৌন নিপীড়ককে চিহ্নিত করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিÍ দিতে হবে। এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করে তার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে ও তার পাশে দাঁড়াতে হবে।”

সমাবেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ভিশন ২০২১ এর দিকে। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে। জেন্ডার সমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অর্ধেক জনগোষ্ঠি হল নারী। সেই নারী সমাজ যদি নানা ধরনের বৈষম্যে ও সহিংসতার মধ্যে থাকে তাহলে আমরা পুরো জনগোষ্ঠিকে একটি উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাতে পারবো না।”

সাভার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানা জাহান সিদ্দিকার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতার, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য রেহানা ইউনুস, এড. মাকসুদা আখতার ও উম্মে সালমা বেগম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ১২ ছাত্রের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারের সিক্রেট গ্রুপে শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের ছবি আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১০ কার্যদিবসের (৮ ডিসেম্বর) মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পছন্দের আরো পোস্ট