জাবির সওরা বিভাগের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের আলোচনা সভা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের উদ্যোগে ‘স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময়’ র্শীষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বিকালে বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠানে ২জন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ধামরাই থানার সানোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খালেদ মাসুদ খান লাল্টু ও কুশারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নত্তোর পর্বে তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বরূপ, ইতিবাচক ও নেতিবাক দিক তুলে ধরে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর ও অকার্যকর বিষয়গুলো মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, নারীর অংশগ্রহণ, গ্রাম আদালতের বিচার প্রক্রিয়া, প্রশাসনের সাথে সমন্বয় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।

গ্রাম আদালতের বিচার প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার উপর করা এক প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা গ্রাম আদালত প্রধানদ্বয় বলেন, গ্রাম আদালতের অধিকাংশ বিচার প্রক্রিয়া অস্বচ্ছতায় আচ্ছন্ন। কারণ প্রত্যেক গ্রামে কয়েকজন মোড়ল বা ছদ্মবেশি-সুবিধাভোগী ব্যক্তি থাকে যারা এই বিচার প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠ বিচারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাছাড়া তারা ভুক্তভূগীর কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায় করে বলেও অভিযোগ করেন তারা ।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন কতটা যুক্তিযুক্ত ও সময় উপযোগী এমন প্রশ্নের উত্তরে স্থনীয় প্রতিনিধিদ্বয় বলেন, দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে মনোনয়ন বাণিজ্য ও দলীয় কোন্দল বেড়ে যায়। এজন্য তারা দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

উন্মুক্ত আলোচনাকালে চেয়ারম্যানদ্বয় বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়মূলক কাজের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সুষ্ঠ সমন্বয় হলে গ্রামীন উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতি সম্পর্কে তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে যে সব আমলা বা বিশেষজ্ঞরা আমাদের যুক্তি-পরামর্শ দেওয়ার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন তারা অধিকাংশ সময়ই আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থের উপর অনৈতিক দাবি করেন। ফলে সঠিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়না।

সর্বশেষ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, যদি কোন চেয়ারম্যান সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করে তবে নিঃসন্দেহে স্থানীয় সরকার অনেক শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবে।

পছন্দের আরো পোস্ট