দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করুন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিবেক দ্বারা তাড়িত। তাই উপাচার্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন-নীতি অবলম্বন করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করুন, শুদ্ধাচারের চর্চা করুন এবং দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতিফলন ঘটান। দিন দিন আমরা অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, যোগ্যমেধাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিম্ম মেধাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। তাই সমাজে দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।’ শুক্রবার কুমিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বিএআরডি) ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন ও বার্ষিক কর্ম-সম্পাদনা চুক্তি সংক্রান্ত ল্যাব-২’ এর দু’দিন ব্যাপী আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বে অবহেলার কারনে দেশের সমূহ ক্ষতি সাধন হচ্ছে। আমরা দুষ্টের দমন না করে আমরা তাদের পালন করছি। তাই অচিরেই ভঙ্গুর এই সমাজকে দুষ্ট, দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে রক্ষা করতে আমাদের শিক্ষিতশ্রেণিকে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দ্বায়িত্ব পালনে আরও সচেষ্ট হতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম. শাহ নওয়াজ আলির সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি’র সচিব ড. মোঃ খালেদ; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, (বিশ্ববিদ্যালয়) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ- মোঃ আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ; ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. মো: আখতার হোসেন, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এন. এম জিয়াউল আলম; অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোঃ মহি উদ্দিন খান; বার্ডের (কুমিল্লা) মহাপরিচালক মওদুদুর রশিদ সরকার প্রমুখ।

এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিজানুর রহমান; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ; শাবিপ্রবি, নোবিপ্রবি, রুয়েটসহ পূর্বাঞ্চলের ২১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী কর্ম-পরিকল্পনা, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, অন্যান্য উচ্চ শিক্ষানীতি উপস্থাপন, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্ম-সম্পাদনা চুক্তি ২০১৭-২০১৮ পর্যালোচনা ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কর্মকা- স্বচ্চ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশের ৪০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বার্ষিক কর্মসম্পাদনা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। অপরদিকে রাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে শুদ্ধ আচরণ সৃষ্টি করা এবং তা কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার জন্য জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

ইউজিসির সচিব ড. মোঃ খালেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘শুদ্ধাচারের অভাবে বাড়তি টাকা আয় করা হচ্ছে। এতে মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। শুদ্ধাচারকে কৌশল হিসেবে নিলে দুর্নীতি বন্ধ করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুদ্ধ লোক নিয়োগ দেয়া দরকার। না হলে পদে পদে দুর্নীতি বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বেশি করে শুদ্ধাচারের প্রতিফলন ঘটানো উচিত।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফের ড. হারুন অর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘শুদ্ধাচার বলতে বুঝায় সময়ের প্রতি গুরুত্ব, সুশাসন ও মানবিক সমাজ গঠন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, জাতির নিজস্ব ইতিহাস বিকৃতি থেকে বিরত থাকা ও ন্যায় সঙ্গত বিষয় সমাজে তুলে ধরে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সোনার বাংলাদেশ গঠন করা। আর এর জন্য দরকার আদর্শ মানুষ হওয়া। তবেই আমরা স্বাধীনতার স্বপক্ষের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি আদর্শ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘নৈতিকতার অভাবে শিক্ষকতার পদ এখন লোভনীয় হয়ে যাচ্ছে। তা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। না হলে সেই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের দ্বারা সঠিক শিক্ষা দেয়া সম্ভব হবে না।’

দু’দিন ব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রথমদিনে (শুক্রবার) আলোচনা ও কর্ম-পরিকল্পনা শেষে সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের (কুবি) সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল আলম ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক সুমাইয়া আফরীন সানি’র নেতৃত্বে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। জমকালো পরিবেশনার মাধ্যমে তারা আবহমান গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন অতিথিদের সামনে।

পছন্দের আরো পোস্ট