ফিশারিজ শিক্ষার্থীদের জন্য নোবিপ্রবির শাহানুলের “বিডি ফিশ পিডিয়া”

মাছের পরিবার ও প্রজাতির নাম, কে প্রথম গবেষণা করেছে, কোথায় পাওয়া যায়, আকার কেমন, কোন রকমের মাছ ইত্যাদি তথ্য এবার পাওয়া যাবে এক প্লাটফর্মে। দেশীয় মাছের প্রায় সকল বৈজ্ঞানিক তথ্য জানতে আর মোটা বই ঘেটে বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। বাঁচবে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ফিসারিজ বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে এমনি একটি মোবাইল এপ্লিকেশন। “বিডি ফিসপিডিয়া” নামে অ্যাপটি তৈরি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহানুল ইসলাম।
“বিডি ফিশপিডিয়া” নামের অ্যাপটিতে ৫৬০ টিরও বেশি স্বাদু ও লোনাপানির মাছের ছবিসহ সকল তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশের মৎস সম্পদকে চোখের পলকে হাতের মুঠোয় আনতে প্রকাশ করা হয়েছে এই এপ্লিকেশনটি যা চলবে ইন্টারনেট ছাড়াই। শিক্ষার্থীরা মাত্র ৬ এমবি খরচ করেই নিতে পারবে এই এপ্লিকেশনটি।
জানা গেছে, টানা সাত বছরে পরিশ্রম করে অ্যাপটি তৈরি করেছেন শাহানুল। বাংলাদেশের মৎস-সম্পদ সম্পর্কিত সকল বই এবং ওয়েবসাইট হতে তথ্য লিপিবদ্ধ করে প্রথমে একটি নকশা দাঁড় করান যা পরবর্তিতে প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে অ্যাপে রূপান্তর করা হয়।
এমন অ্যাপ তৈরির ধারনা নিয়ে শাহানুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি অনেকটা গল্পের ছলেই জানান, “ভার্সিটির প্রথম বছরের ঘটনা। মৎস বিভাগে ক্লাস চলছে। স্যার ক্লাসে একটি মাছের নানান তথ্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
আলোচনার ফাঁকে স্যার বললেন, ইন্টারনেট থাকলে তোমাদেরকে মাছের ছবি সহ সকল তথ্য আরো ভালো ভাবে দেখাতে পারতাম। স্যারের কথা গুলো শুনে প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার, এমন কোন সফটওয়্যার আছে যেটাতে ইন্টারনেট ছাড়াই মাছের সব তথ্য দেখা যাবে।
স্যার বলেছিলেন, আমার জানা মতে নাই, কত কত মাছ, কত শত তথ্য, কত বড় হবে সফটওয়ারটা, তুমি বানাও একটা, ভবিষ্যতে আমরা দেখবো।
স্যারের সেদিনকার কথাটা বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলাম। যার ফলাফল হলো “বিডি ফিশপিডিয়া” (BD Fishpedia) নামক এই মোবাইল এপ্লিকেশন।”
কি কি আছে অ্যাপটিতে এমন প্রশ্নের জবাবে নোবিপ্রবির এই শিক্ষার্থী জানান, মাছের পরিবার ও প্রজাতির নাম, কে প্রথম গবেষণা করেছে, কোথায় পাওয়া যায়, আকার কেমন, রকম কেমন ইত্যাদি তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় সব মাছের ছবি দেওয়া হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ছবি ডাউনলোড করে রাখতে পারে। এবং  রেফারেন্স দিয়ে পড়াশোনা সহ প্রয়োজনীয় সব কাজে ব্যবহার করতে পারবে।”
কেন শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাপটি প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে শাহানুল জানান, আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গায় কম বেশি মাছের চাষ হলেও মাছ সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে শরনাপন্ন হতে হয় বই কিংবা ইন্টারনেটের। কিন্তু দেশে ইন্টারনেটের গতি অনেক কম। আবার দাম বেশি হওয়ায় সকলে তা সাধ্য অনুযায়ী কিনতে পারে না।
ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক ও গবেষকদের বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ের কাজে মাছের কোন তথ্য প্রয়োজন হলে তা সহজলভ্য না হওয়ায় ব্যাহত হতে পারে সে কাজ। এতে গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় নানা মুখি বিড়ম্বনায়। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে এসব তথ্য সহজে ইন্টারনেট ছাড়াই পেতে পারে সেজন্য মূলত অ্যাপটি প্রয়োজন বলে মনে করেন ফিসারিজ বিভাগের এই শিক্ষার্থী।
সমস্যা এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা প্রসঙ্গে শাহানুল জানান, এই অ্যাপটির এখনও কিছু তথ্য ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সাইটের, যেমন ফিশবেজ এর কিছু ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিগুলো ছোট, কিছুটা ঘাটতি ও একবারে সকল মাছের সবধরনের তথ্য সন্নিবেশ করা বাকি আছে বলে জানান তিনি। তবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে অ্যাপটিকে ঢেলে সাজিয়ে আরও উন্নত করা যাবে বলেও জানান শাহানুল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে মৎস্য ব্লগ, মৎস্যবার্তা সহ আর নানা আয়োজন নিয়ে ফিসারী ফিসারিজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এই “বিডি ফিশপিডিয়া” অ্যাপটির সাথে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যত যেন তারা মাছ সম্পর্কিত যেকোন প্রশ্ন সহজেই করতে পারেন কিংবা খুঁজে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় তথ্য।”
বর্তমানে শাহানুল ইসলাম চিনের তিয়ানজিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পিএইচডি করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৎস ও সমুদ্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে একি বিষয়ে অনার্স শেষ করেন।
মোবাইল এপ্লিকেশনটি পেতে গুগল প্লে স্টোরে বা অ্যাপ বাজারে গিয়ে বিডি ফিশপিডিয়া ( BD Fishpedia ) ইংরেজিতে লিখলেই চলে আসবে।
অথবা ডাউনলোড করা যাবে এই লিংক থেকে,
পছন্দের আরো পোস্ট