বিইউবিটিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) তে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আজ (২৯ মার্চ) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মিরপুরস্থ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটিকে উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, এমপি।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটি ট্রাস্টের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এ এফ এম সরওয়ার কামাল এবং বিইউবিটির একাডেমিক এডভাইজরি কমিটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিইউবিটি ট্রাস্ট্রের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো: আবু সালেহ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মদানকারী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর সম্মানিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও সভাপতিসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রী জনাব আ. ক. ম. মোজাম্মেল হককে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় বিইউবিটির পক্ষ থেকে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট ও স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিইউবিটির সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক মিঞা লুৎফার রহমান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বহু প্রতিক্ষিত স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সকলকে দেশগড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা এবং সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।

এরপর বক্তব্য রাখেন বিইউবিটির জয়েন্ট রেজিস্ট্রার ও বিইউবিটি এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জনাব এ এইচ এম আজমল হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস আসলে এক সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমার ফসল। এ দেশের গৌরবময় ইতিহাসের ¯্রােতধারায় এসে ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছি- যা আমাদেরকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং দেশাত্মবোধে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটি ট্রাস্টের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এ এফ এম সরওয়ার কামাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ অনেকেই বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাকে ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার চেষ্টা করে। পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের যে অন্যায়কে প্রতিহত করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এর সমুচিত জবাব আমাদেরকে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম ইতিহাস, ছয় দফা দাবি, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন এবং সর্বোপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দিক-নির্দেশনা ও স্বাধীনতা ঘোষণার আলোকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের পুরো চিত্র তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন একমাত্র বিপ্লবী সফল নেতা যিনি স্বপ্ন দেখতেন, স্বপ্ন দেখাতেন এবং তা বাস্তবায়নও করেছেন। তথ্যভিত্তিক মূল্যবান বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বিইউবিটির তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের শিক্ষা নিয়ে সকল ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহত করে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বিইউবিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মো: আবু সালেহ ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতার আলোকে ১৯৭১ সালের অগ্নিঝড়া মার্চ থেকে শুরু করে পুরো যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা হাতে নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ক্ষুধা, দরিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় হোক আজকের অঙ্গিকার।

সবশেষে বিইউবিটি কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৭ এর আলোকে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি, বিইউবিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

পছন্দের আরো পোস্ট