উপাচার্য পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান

আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান-কে দ্বিতীয় মেয়াদে আরো ৪ বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করেন । উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ড. মীজানুর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান কুমিল্লার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৫৮ সালে জন্ম। বিবির বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ১৯৭৮ সালে বি. কম.অনার্স এবং ১৯৭৯ সালে এম. কম উত্তীর্ণ হন। শিক্ষাজীবনের সব ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। উচ্চপদের সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৮২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন এবং পরে ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে মার্কেটিং বিভাগে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের বহু শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ড. মীজানুর রহমান বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন; এর মধ্যে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের চেয়ারম্যান, আইসিএমএ বাংলাদেশের কাউন্সিল মেম্বার, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য উল্লেখ্যযোগ্য।

বর্তমানে তিনি আইসিবি-এএমসিএল ও ম্যাকসন্স স্পিনিং-এর ডিরেক্টর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুনামধন্য শিক্ষক, দক্ষ প্রশাসক, প্রগতিশীল যুব আন্দোলনের পুরোধা ড. মীজানুর রহমান মার্কেটিং বিষয়ের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ’ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তীতে তিনি ‘বাজারজাতকরণ’, ‘বাজাজাতকরণ নীতিমালা’, ‘¯œাতক বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক আরো তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং পাঠকপ্রিয়তার কারণে বাজারজাতকরণ গ্রন্থের একটি সহজ সংস্করণও তিনি তৈরি করেন, যা মার্কেটিং বিভাগের বাইরের পাঠকদের নিকটও অত্যন্ত সমাদৃত। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি পাঠকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি চৌকস একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয় কলাম লেখক। ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, বুলগেরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ-বিষয়ক বক্তৃতা প্রদান করেছেন।

ড. মীজানুর রহমান-এর সহধর্মিণী নাজমা আক্তার একজন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী। তাঁর একমাত্র পুত্র অনিন্দ্য রহমান একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং পুত্রবধূ নাজিয়া আফরিন মনামী ডিবিসি টেলিভিশনের নিউজ এডিটর। ড. মীজানুর রহমানের সবচেয়ে প্রিয় মুখ তাঁর দৌহিত্র আনুশ।

পছন্দের আরো পোস্ট