বসন্তকে বরণ করলো বশেমুরবিপ্রবি

`ফুল ফুটুক বা না ফুটুক, অাজ বসন্ত’। অার এই অমোঘ বাণীকেই মন ও মননে ধারণ করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মাতাল বসন্তের প্রথম দিনটাকে বরণ করে নিলো গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতির মধ্যমণি হিসেবে খ্যাত সবার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ।

বাংলা বিভাগের সুযোগ্য সভাপতি মোঃ অাব্দুর রহমানের নেতৃত্বে অাজ (সোমবার) সকাল ১০টার সময় বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

উক্ত শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। এছাড়াও, শোভাযাত্রায় বাংলা বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও অন্য বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলা বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও শোভাযাত্রায় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিলো ঈর্ষণীয়। অন্যদিকে, ধরায় ঋতুরাজ বসন্তের শুভাগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে প্রতি বছরই `বাসন্তীকা’ নামক দেয়ালিকাও প্রকাশ করা হয়।

Post MIddle

এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও `বাসন্তীকা’ দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দেয়ালিকাতে বাংলা বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বরচিত ছোটগল্প, কবিতা স্থান পেয়েছে। বিভাগের সম্মানিত প্রভাষক সানজিদা হক মিশু বলেন “দেয়ালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে বলে অামি মনে করি। হয়তো তাদের মধ্য থেকেও বের হয়ে অাসতে পারে ভবিষ্যতের কোনো বড়ো কবি কিংবা সাহিত্যিক।

” তাছাড়াও, বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তরুণ কবি ফয়সাল হাবিব সানি’র মতে, অাজকের এ ছোট্ট দেয়ালিকায় হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার্থীদের সাহিত্য বিকাশের মোক্ষম অস্ত্র। সানি বলেন, “ বর্তমানে স্বজনপ্রীতির অাখড়ায় পরিণত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকাগুলোর সাহিত্য বিভাগ।

ফলশ্রুতিতে, দেশের অানাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনেক প্রতিভায় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে করে দেশে প্রকৃত কবি-সাহিত্যিক ও অসংখ্য ভালো কবিতার মৃত্যু হচ্ছে প্রতিনিয়ত! এক্ষেত্রে দেয়ালিকা তাদের প্রতিভা বিকাশে নিঃস্বন্দেহেই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

” বলা বাহুল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ যেভাবে বসন্তকে কাছে টেনে নিয়েছে, নব যৌবনে মেতেছে অাজ তা যেকোনো শিক্ষার্থীকেই মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখতে সক্ষম। অার জীবনের প্রতি ভালোবাসায় হারাতে বসেছে যারা তাদের কাছে তাদের কাছে এ উৎসব জীবনকে অাবার নতুনভাবে সাজানোর সম্ভাবনা সঞ্চার করতে পারে।”

পছন্দের আরো পোস্ট