ইবি বাংলা বিভাগের আয়োজনে বসন্তবরণ উৎসব

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, বাংলাদেশে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে যে ১৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বসন্তবরণ অনুষ্ঠান আমাদের মতো করে হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মনে-প্রাণে ষোলআনা বাঙালিয়ানা চর্চার ক্ষেত্রে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নয়। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বাঙালিয়ানা চর্চায় আমরা মূলত দ্বৈতসত্ত্বা নিয়ে এই ২১ শতকের পৃথিবীতে বাস করতে চাই। একটি সত্ত্বা হলো আমাদের দেশমাতৃকা, জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি, আমাদের শিল্পকলা এবং আমাদের ঐতিহ্য-এটিকে ঝান্ডা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। আমরা একইসঙ্গে বাঙালি এবং বিশ্ব নাগরিক হতে চাই। তিনি বলেন, যে ভাল বাঙালি হতে পারে না, সে ভাল বিশ্ব নাগরিক হতে পারে না। সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি একই সঙ্গে ষোলআনা বাঙালি এবং বিশ্বনাগরিক। সুতরাং আজকের যে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান আমরা এর মধ্যদিয়ে বাণী প্রচার করতে চাই যে, আমাদের চেতনায় বাঙালিত্ব এবং মননে বিশ্বজনীনতা।

তিনি বলেন, বাঙালি এবং বাংলাদেশের অহংকারের অনেকগুলো দিক আছে। একটি হলো প্রকৃতি। আমাদের প্রকৃতির যে রূপ এবং বৈচিত্র, এ বৈচিত্র পৃথিবীর কোন দেশে কোনখানে নেই। আমাদের ৬টি ঋতু যে ১২মাসকে আলিঙ্গন করে ধরে আছে। তার প্রতিটি মাসে প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ আলাদা করে অনুভব করা যায়। প্রতিটি ঋতুর নিজস্বতা আছে। তিনি আরও বলেন, বসন্ত আমাদের নব জাগরণের প্রতীক। বসন্ত আমাদের উপহার দেয় ফুলে-ফলে সুশোভিত একটি পৃথিবী। বসন্ত আমাদের মিলন মেলার প্রতীক, আমাদের ফিরে দাঁড়াবার প্রতীক, বসন্ত আমাদের পুরোনো জড়াজীর্ণকে অগ্রাজ্য করে নতুনকে আলিঙ্গন করার প্রতীক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত অসাম্প্রদায়িক একটি প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক, সন্ত্রাসমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে আহবান, সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলে বসন্তের এই প্রথম প্রভাতে আসুন আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলি, আমরা যে কোন মূল্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস এবং সকল রকমের কূপমন্ডুকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ এগুলো পরিহার করে বসন্তের মতো অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠি।

সোমবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের আয়োজনে “বাংলা মঞ্চে” বসন্তবরণ ১৪২৩ অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।

বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. গৌতম কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বসন্তবরণ উৎসব ১৪২৩’র আহবায়ক বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মূর্শেদ।

সভায় বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা আমাদের নিকট একেকটি ফুল। বসন্তের এই দিনে আমাদের শিক্ষার্থীদের ফুল হিসেবেই আমি দেখতে চাই। তিনি বলেন, বসন্ত শাহ্ আব্দুল করিমকে মনে করিয়ে দেয়, বসন্ত মনে করিয়ে দেয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, বসন্ত মনে করিয়ে দেয় আমের মুকুল, সরিষার ফুলকে। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, আমার মায়ের কথা, গ্রামের কথা, দেশের কথা, বাঙালিত্বের কথা, আমার অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা এগুলো বসন্তের মধ্যদিয়েই উদভাসিত হয়। সেই দিক থেকে বসন্তবরণ উৎসবের এই গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে এই যে অনুষ্ঠান পালন করছি এর মূল বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি পরিবেশ। রাষ্ট্র যদি এই পরিবেশ না করতে পারতো তা হলে আমরা এই আয়োজন করতে পারতান না। তাই যারা বাঙালিত্ব সকল অনুষ্ঠান পালন করতে চায়, তাদেরকে ভাবতে হবে কোন সরকার থাকলে আমরা এ ধরণের অনুষ্ঠান নির্বিগ্নে পালন করতে পারবো। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ নিপাত যাক এই শপথ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

অপর বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, আমি বাঙালি, বাংলা আমার মাতৃভাষা, বাংলাদেশ আমার প্রিয় জন্মভূমি-এই অনুভুতি যদি অন্তরে না থাকে তাহলে বাঙালির উৎসবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, আমরা নববর্ষ উদযাপন করি, আমরা বসন্তবরণ করি এবং বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যান্য পালা-পার্বনও উদযাপন করে থাকি। আমরা মনে করি, এ যেন বাঙালির দ্বিতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাঙালির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল। তারপর আবার প্রায় দু’দশকেরও বেশি সময়ের পরে বাঙালিত্বের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। আমরা চাই যে, বাংলাদেশ এই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির, বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপক্ষের শক্তির এবং বাঙালিত্বের স্বপক্ষের শক্তির দৃঢ় অবস্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ যে চির বসন্তের দেশ হয়ে উঠে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মোঃ বাকী বিল্লাহ বিকুল। আলোচনাসভার পূর্বে ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় এবং আলোচনাসভা শেষে সংগিত, নৃত্য, কবিতা আবৃতি এবং নাটীকা “চিকিৎসা সংকট” এর আয়োজন করা হয়।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট