আইইউবি’র ১৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-র ১৮তম সমাবর্তন (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) আইইউবির নিজস্ব ক্যাম্পাস বসুন্ধরা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্নকারী ১৪১৯ জন শিক্ষার্থী এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আইইউবি’র মাননীয় আচার্য মোঃ আব্দুল হামিদ-এর পক্ষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং গ্রাজুয়েটদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘দিন বদলের সনদ’ অনুসরণ করে ২০২১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং ‘মধ্যম আয়ের দেশ’ গড়ার জন্য গ্রাজুয়েটসদের সম্মিলিত ও নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি। তিনি বলেন, এই সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এই দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

“সমাবর্তন বক্তা” হিসেবে আইইউবি-র ১৮তম সমাবর্তন অলংঙ্কৃত করেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নন্দিত ব্যক্তিত্ব , ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ কেসিএমজি। “আমাদের একমাত্র দায়িত্ব উন্নয়নের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা, তাহলেই দরিদ্র মানুষ নিজেরাই নিজেদের দারিদ্র পীড়িত অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হবে”, স্যার ফজলে হাসান আবেদ এই দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “তোমাদের অধিকাংশই নিজের ক্যারিয়ার তৈরি, কর্মক্ষেত্রে উন্নতি এবং নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তার পরেও তোমাদের এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসমূহ যেমন জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকাশ লাভকারী আগ্রাসন মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে হবে। নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য তোমরা কী করেছ, সেটাই হয়ে থাকবে বিশ্ব-মানচিত্রে তোমাদের সাফল্যের ছাপ”।

বাংলাদেশের অসীম সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে স্যার আবেদ বলেন,“ বিশ্ব আজ চরম দারিদ্র দূরীকরণের জন্য একতাবদ্ধ যা আজ আর কোন অলীক স্বপ্ন নয়, বরং এটি চরম এক বাস্তবতা এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই সারা বিশ্ব ঊন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখছে।

সমাবর্তনের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, “দেশ ও জাতির নিকট তোমাদের অনেক ঋণ অপরিসীম। কখনই তাদের অবদানের কথা ভুলে যেও না। তোমাদের আজকের সফলতার পিছনে বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাধারণ জনগণ ও সমাজ, সকলের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। অধ্যাপক মান্নান বলেন, ভাল ছাত্র হবার পাশাপাশি মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া অত্যন্ত জরুরী । কেননা, শিক্ষিত গুনগতমান সম্পন্ন জনগোষ্ঠীই পারে সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে।

ইএসটিসিডিটি’র চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ঊল্লেখ করেন, দেশে ও বিদেশে আইইউবি’কে একটি বিশ্বমানের উচ্চ শিক্ষার স্থান হিসেবে তৈরি করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই এই ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে করে যাবে।

আইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন আইইউবি থেকে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা গ্রাজুয়েটদের বাস্তব জীবনের সকল বাধা অতিক্রম করতে সহায়ক হবে। আইইউবি’র গ্রাজুয়েটরা ন্যায়নীতি, একাগ্রতা এবং দৃঢ়তার সাথে তাঁদের নিজেদের এবং একইসাথে জনকল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবে বলে গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।

আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক এম ওমর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন গ্রাজুয়েটরা সর্বদা ভিন্নভাবে চিন্তা করবে এবং সফলতার সাথে মানুষের জন্য কাজ করবে। তারা শুধু পেশাগত জীবনেই সফল হবে না বরং সমাজ, দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য সহনশীল ও উদার বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে উপ-উপাচার্য (মনোনীত) অধ্যাপক মিলান পাগন সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।

গ্রাজুয়েটস শিক্ষার্থীরা, তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ আইইউবি’র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট