কুবি শিক্ষক সমিতির আন্দোলন অব্যাহত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচির মধ্যেই আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে দিয়েছে। উক্ত ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে অব্যাহতি ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করতে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেধে দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। সোমবার শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক নাহিদুল ইসলামকে ক্যাম্পাসেই একজন ছাত্র কতৃক তাঁর স্ত্রীর সম্মুখে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত ঐ ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বরং এ ঘটনার প্রশ্রয় ও ইন্ধনদাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে তদন্ত কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। এতে তদন্ত কাজ প্রভাবিত হবে এবং দীর্ঘায়িত করবে।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে, ক্লাস-পরীক্ষা চালু নিয়ে আলোচনারত অবস্থায় ছাত্র দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় এবং পূর্বের দাবি গুলোর অগ্রগতি না দেখায় ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে অব্যাহতি ও অভিযুক্ত ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার না করা হলে অন্যান্য আলোচনাও স্থগিত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ অভিযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সূলভ কথা নয়। এগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বানোয়াট।’

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নাহিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাতেই লাঞ্ছনাকারী ঐ ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যকে লিখিত আবেদন দেন ভূক্তভোগী ঐ শিক্ষক। এ ঘটনার তদন্তের জন্য রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নিদের্শনা কার্যালয়ের পরিচালক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মুহম্মদ আহসান উল্যাহকে আহবায়ক, বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে সদস্য ও সহকারী রেজিস্ট্রার আমিরুল হককে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে কোন সময় উল্লেখ না করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ছয় দফা দাবিতে সোমবারও ৮ম দিনের মত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ২২ জানুয়ারি থেকে শিক্ষক সমিতির লাগাতার এই আন্দোলনে সোমবারও ২ টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে ১৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮ কার্য দিবসে ১৯টি বিভাগে একটিও ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। ২২ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সেমিস্টারের ২৭টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী।
অপরদিকে ক্লাস পরীক্ষা চালুসহ মোট ১১ দফা দাবিতে গত সপ্তাহজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে থাকলেও এ সপ্তাহে তাদের আন্দোলন আর চলমান দেখা যায়নি।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট