ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে আগুন জ্বালিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর কোন আশ্বাস না দেওয়ায় এবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষক বাস আটকে দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ কোন কিছু না বলে বিকাল ৫টায় অফিস সময় শেষে শিক্ষক বাস যেতে চাইলে প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে ফটকের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ১১ দফা দাবি থেকে সরে এসে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর ১ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান ছিলো।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক মামলা দায়ের করা ও শিক্ষক লাঞ্চনাকারী শিক্ষককে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন পদ থেকে অব্যাহতিসহ ৬ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণার পর ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ১১ দফা দাবিতে গত রোববার থেকে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, ট্রেজারার, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পরেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসনকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর ইতিবাচক আশ্বাস প্রদানে সময়সীমা বেধে দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোন আশ্বাস না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

এদিকে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে বাড়ছে সেশন জট। শিক্ষকদের পাঁচ দিনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনে ¯œাতক এবং ¯œাতকোত্তর ২২টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে বলে জানান উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূরুল করিম চৌধুরী।

জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয়ের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়ে কোন ইতিবাচক সারা পাই নি। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’##

পছন্দের আরো পোস্ট