ইবিতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, বিতর্ক বাঙালির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের উদ্যোগে এবং ইসলামবিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৬’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, বাঙালি বীরের জাতি, বাঙালি আবেগ প্রবণ জাতি। ৩০ লাখ শহীদ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যে আত্মাহূতি দিয়েছেন তার পুরোটা জুড়েই ছিল দেশ-মাতৃকার জন্যে প্রবল অপ্রতিরোধ্য আবেগ। শুধু তাই নয়, আবেগের মধ্যদিয়ে আত্মাহূতি দিয়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অজর্ন করেছে- সেটা হচ্ছে স্বাধীনতার সংগ্রাম। আর মুক্তির সংগ্রামে বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে- এইক্ষণে, এই মুহুর্তে আমাদের ১৬২ মিলিয়ন বাঙালির নেতা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল থেকে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার এই অভিযাত্রার পুরোটাতেই কাজ করেছে আমাদের শাণিত যুক্তি এবং বুদ্ধি। সুতরাং বাংলাদেশের মানুষের একদিকে যেমন আছে দেশমাতৃকার জন্য প্রবল অপ্রতিরোধ্য আবেগ, আরেকদিকে তেমনি আছে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে এগিয়ে যাবার জন্য ক্ষুরধার শাণিত যুক্তি, বুদ্ধি এবং তর্কপ্র্রবণতা।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, প্রাচীন গ্রীস ও এথেন্সে বড় বড় রকমের বিতর্ক রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করা হতো। বিতর্কের মধ্যদিয়ে একটি সত্যে উপনীত হওয়ার চেষ্টা তারা করতেন। মধ্যযুগে যখন পশ্চিমা বিশ্বে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সূত্রপাত হয় এবং তাদের কারিকুলামে, পাঠ্যতালিকায় এবং সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত একটি অনিবার্য বিষয় ছিল বিতর্ক। পরবর্তীতে ১৮শতকের রেঁনেসা এবং আলোকপর্বের যে অগ্রযাত্রা, তার পিছনে অক্সিজেনের মতো কাজ করেছে বিতর্ক। তিনি বলেন, আধুনিকতা মানেই হচ্ছে বিজ্ঞানমনষ্কতা, তর্কপ্রিয়তা, বিতর্কের মধ্যদিয়ে সত্যে উপনীত হওয়া। সুতরাং আমাদের আধুনিক যুগেও বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা অসীম হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুমাত্র বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় নয়, বাংলাদেশেও। তিনি আরও বলেন, আজকের যে যুব সমাজ, সেই যুব সমাজকে যদি বিজ্ঞানমনষ্ক, প্রগতিশীল, আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে তাদের তর্কপ্রিয়, বিতর্কপ্রিয়, যুক্তিনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ করে গড়ে তুলতে হবে। বিতর্কের একমাত্র প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্য হলো এক-একজন মানুষকে এক-একজন নেতায় পরিণত করা, নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। তিনি মধ্যযুগের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউরোপের অক্সফোর্ড, হারবার্ড-এর মতো এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যতালিকায়ও বিতকের্র উপর সিলেবাস ও কোর্স চলু করার বিষয়ে ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বিতর্কের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ২১ শতকের পৃথিবী চায় সকল রকমের ভেদ-বুদ্ধি বর্জিত একটি একতাবদ্ধ জনগোষ্ঠি। ভাইস-চ্যান্সেলর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ করে দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সাথে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির আহবায়ক ও মডারেটর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বির্তকের মূল অর্থ হলো যে, কোনটি সত্য, কোনটি যৌক্তিক, কোনটি গ্রহণ করা যাবে – সেটিকে বের করে নিয়ে আসা। বিতর্ক মানুষকে যৌক্তিক করে, বিতর্ক মানুষকে শাণিত করে, বিজ্ঞানমনষ্ক করে, অসাম্প্রদায়িক করে। তিনি বলেন, বিতর্ক একজন মানুষকে যোগ্য করে তোলে কারণ একজন বিতার্কিক কখনো নেতিবাচক জিনিসকে গ্রহণ করে না। বিতর্ক আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে অত্যন্ত জরুরী।

অপর বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। আমরা সারা পৃথিবীতে শুধু বীরের জাতি হিসেবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইনা, আমরা শিক্ষিত বীরের জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, তারই আলোকে বর্তমান সরকারের যে দিক-নির্দেশনা ও দর্শন Ñ শুধু শিক্ষার্থীদেরকে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা নয়, শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতির মধ্যদিয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। দু’দিনব্যাপী যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এটি তারই একটি প্রয়াস মাত্র। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিবেটিং সোসাইটির সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম।

জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় আয়োজিত দু’দিনব্যাপী এ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু মেরি টাইম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৮টি ভ্যেনুতে এ প্রতিযোগিতা চলছে। আজ (২৪ জানুয়ারি) চুড়ান্ত প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট