রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ- কেআইবি সভাপতি

কৃষিবিদদের পেশাজীবী সংগঠন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের  (কেআইবি) ২০১৭-১৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি পদে কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ  নির্বাচিত হয়েছেন।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন কৃষিবিদদের পেশাজীবী সংঘটন বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কৃষিবিদের এ  প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁর ভাবনা,  রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন সহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য আলোচনার চম্বুকাংশ তুলে ধরা হলো।

সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও  বিদায়ী কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সালেহ আহমেদ বলেন, অনেক ভালো লাগছে। কেআইবি’র সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় মনে হচ্ছে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি।

সভাপতি হিসেবে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে এ এম এম সালেহ বলেন- বর্তমানে ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড কৃষিবিদ আছেন। পর্যায়ক্রমে সকলকে আমরা একটি অনলাইন ডাটাবেসের আওতায় আনব।  আমাদের জেলা কমিটি গুলোকে এই ডাটাবেসের আওতায় আনার মাধ্যমে আমরা এই কাজ শুরু করবো। প্রতি মাসে আমরা সেমিনার আয়োজন করার পরিক্লপনা রয়েছে। আমাদের একটি আন্তর্জাতিক জার্নাল আছে। আগামী একশ দিনের মধ্যে আমরা তা প্রকাশের ব্যবস্থা করবো এবং প্রতি ৬ মাস পর পর প্রকাশের ব্যবস্থা করবো। বিদেশে বিশেষ করে আমেরিকা , কানাডা , অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের অনেক কৃষিবিদ আছেন। আমরা বিদেশে কেআইবি’র শাখা খুলবো ।

এমন একটা সময় ছিল, যখন কৃষিবিদরা নিজেদের কৃষিবিদ বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করত। এখন সে অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। কৃষিবিদদের সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মেধাবী বর্তমানে কৃষিতে পড়তে আগ্রহী হচ্ছে। এখন কৃষিবিদদের অর্জিত সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। সভাপতি হেসেবে আগামী দুই বছরের জন্য এটাই হবে আমার চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক জীবনে স্মরণীয় ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  নিয়ে আমার একটা সুখ স্মৃতি আছে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে যাই।  সরকারের দমন নিপীড়নের মধ্যেও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে ছাত্র সংসদে জয়লাভ করায় তিনি খুব খুশি হয়ে ছিলেন। সাক্ষাতের সময় প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়াকে দেখিয়ে তিনি বললেন, তোমার দুলা ভাই আছে, যাও এটাক কর। আমাদের পক্ষ নিয়ে আপা ওয়াজেদ মিয়াকে বললেন, তোমার অনেক গুলা শালা আসছে, কিভাবে আপ্যায়ণ করবা,কর। তখন দুলা ভাই আমাকে ৫০০  টাকা দিয়ে বলেছিলেন- ছোট ভাই, আমি পলিটিকস বুঝি না। কিছু খেয়ে নিও।

রাজনীতিতে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আমার আদর্শ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কলেজে থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে এবং তিনবার কোলাকুলি করার সৌভাগ্য হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আমার নাম জানতেন কিনা জানিনা, তবে আমার চেহারা চিনতেন । বঙ্গবন্ধুর আদর্শই আমার রাজনীতির আদর্শ।

কর্মজীবনের শুরুতেই ১৯৮২ সালে সুগার মিলে চাকরীতে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৩ সালে কৃষি ব্যাংকে। সব শেষে ১৯৮৭ সালে কর্মাস ব্যাংকে । এরপর পেশাজীবী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ সালে কেআইবি ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এরপর কেআইবি’তে ৪ বছর কোষাধ্যক্ষ এবং  ৪ বছর জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কৈশরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে ছিলাম। ধামরাই যাদবপুর বি এম হাই স্কুলে নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। স্কুলে পড়া অবস্থায় ১৯৬৯ সালের ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেই। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিাম। তখন খুব একটিভ ছিলাম। আমরা বড় ভাইদের সাথে মিলে এলাকার তৎকালীন মুসলীম লীগের নেতা আজগড় আলীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অংশ গ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, ধামরাই থানায় আমার বড় ভাই সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। বয়স না হওয়ায় আমার কাছে কোন অস্ত্র ইস্যু করা ছিল না। তাই সার্টিফিকেটও পাইনি। আমি ঢাকা থেকে আমাদের গ্রামে আগত শরনার্থীদের  জন্য বাড়ী থেকে খাবার নিয়ে যেতাম।

স্বাধীনতার পর কলেজে পড়াকালীন সময়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হন এ এম এম সালেহ। কলেজ জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে কালিয়াকুর সরকারী কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় আমি ছাত্রলীগে যোগ দেই।  তখন ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। আমি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি শক্তিশালী করার জন্য কাজ শুরু করি এবং ফলশ্রুতিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে ছাত্রলীগ সমর্থিতরা পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনিস্টিটিউট (বিএআই) এবং বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ভর্তি হই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পর বিএআই’তে ছাত্রলীগের কোন কমিটি ছিল না। আমি ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগকে পুনরিজ্জীবিত করি। এবং প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালীন সময়ে শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনিত হই। আর আমার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনিত হন খন্দকার মাহাবুব।

তখন সারাদেশে ছাত্রদলের জয়জয়কার। ছাত্রদলের নেতাদের দৌরাত্মে সাংগঠনিক করা প্রায় অসম্ভব ছিল। বাড়ি  ঢাকা হওয়ায়  লোকাল কিছু সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু  কিছু স্বার্থনেষী মহলের চক্রান্তে ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি ভাগ হয়ে যায়।  ছাত্রলীগের একটি অংশ ফজলুল-চন্নু গ্রুপে যোগ দেয়। অন্য একটি গ্রুপ যোগ দেয় জালাল-জাহাঙ্গীর গ্রুপে।

এর প্রভাব আমাদের শাখা ছাত্রলীগের উপরও এসে পড়ে। আমাদের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল-চন্নু গ্রুপে যোগ দেয়।

আমি তাকে আমাদের কৃষি ইনন্সিটিটিউটের ভিপি পদের লোভ দেখানোয় সে আবার আমাদের গ্রুপে যোগ দেয়। তখন আমরা স্লোগান দিতাম, জাজা নয় ফজু নয়; বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ চাই

১৯৮১ সালে আমাদের বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনিস্টিটিউটে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়া হয়। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। এর পরও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র সংসদের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়। শুধু তাই নয়, আমারা হল সংসদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করি।

আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতায় সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রদল কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর তৎকালীন নবম পদাতিক ডিভিশন ছিল এখনকার চন্দ্রিমা উদ্যানে। কৃষি ইনন্সিটিটিউটে ছাত্রলীগের মেজোরিটি থাকায় এটা তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান মেজর জিয়াউর রহমানের জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল।

পছন্দের আরো পোস্ট