পিতার জন্য যত্নে নেয়া এক পুত্রের টিফিন

সেদিন বাসে একটা কান্ড হয়েছে। দিন শেষে যখন রিলাক্স হয়ে সারাদিনের আমার দৌড়-ঝাঁপের কথা ভাবছি, বাসের ব্যাপারটা মনে পড়লেই খারাপ লাগছে। আসলে ঐ সময় রোদ-গরম, ভীড়, কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তা চারদিক থেকে ঘিরে ছিলো আমাকে।

তখন খেয়াল করলাম, আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি ঠিক তার সামনের সিটটাই ফাঁকা। পাশের সিটের ছেলেটা সেই সিটের ওপর একটা প্যাকেট রেখেছে টিফিন বাটির। আমি বসার জন্য ছেলেটিকে প্যাকেটটা সরাতে বললাম। কিন্তু ছেলেটা জানালো সে নাকি দুই সিট নিয়েছে।

জিজ্ঞেস করলাম, মানে? ভীড়ে দাঁড়িয়ে কষ্ট করছি এতোগুলো লোক, আর আপনি দুই সিট নিয়েছেন মানে? আপনার লোক কই? কোথ্থেকে উঠবে?

কেউই নাকি উঠবে না, সে জানালো। তার নিজের জন্যই সে দুই সিট নিয়েছে।

বোঝো অবস্থা! মগের মুল্লুক?? যান চেপে যান, না হয় সিট ফাঁকা করেন……বলে ধমক দিয়ে জোরে জোরে কথাগুলো বললাম। কিন্তু সে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকলো।

যখন বাসের ড্রাইভারসহ আরও কিছু লোক হইহই করে উঠলো, ছেলেটা উপায়ন্তর হয়ে প্যাকেটটি সরিয়ে নিলো। আমিও ধপাস তরে বসে পড়লাম।

এরপর শুনলাম সে বাসের ড্রাইভারকে কড়া করে বলছে…..সে উঠার সময়ই বলে উঠেছিলো নাকি বাসে সে দুই সিট নিয়ে বসবে। কেনো তাকে সরানো হলো।

যাই হোক ছেলেটা আসাদ গেটে নেমে যাবার পর ড্রাইভার আমাকে যা বললো শুনে তখন থেকেই মনটা খচখচ করছিলো।হসপিটালে ভর্তি বাবার জন্য ছেলেটা টিফিন ক্যারিয়ারে করে দুপুরের খাবার নিয়ে যাচ্ছিলো।

খুব সাবধানে যত্ন করে তার পাশের সিটটায় রেখেছিলো যেনো খাবার ঝোল পড়ে না যায়।

নাহ্! কাজটা খুব খারাপ করে ফেলেছি

পছন্দের আরো পোস্ট